সিলেটের পরবর্তী ‘সিগনেচার পণ্য’ হতে যাচ্ছে কফি

সিলেটের গোলাপগঞ্জে ৫০ বিঘা জমিতে গড়ে উঠেছে “কফি গার্ডেন”। এছাড়া বিয়ানীবাজার উপজেলায় বেশ কয়েকটি ছোট ছোট টিলায় চাষ হচ্ছে কফি। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) জার্ম প্লাজম সেন্টারে চলছে বাণিজ্যিক কফি উৎপাদনের গবেষণা। সরকারি উদ্যোগেও নানা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে মনে করা হচ্ছে, সিলেটের পরবর্তী “সিগনেচার পণ্য” হতে যাচ্ছে কফি।

কৃষি বিভাগের উদ্যোগে সারাদেশে “কৃষি ও কাজু বাদাম উন্নয়ন প্রকল্প” নামের একটি কর্মসূচি চালু আছে। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিলেটে কফি চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন খান।

তিনি ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “প্রাথমিকভাবে গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারে বেশ কয়েকটি কফি বাগান গড়ে উঠেছে। এসব এলাকায় নতুন করে কফি রোভাস্টা প্রজাতির গাছ লাগানো হচ্ছে। সিলেটের পাহাড়ি এলাকায় কফি চাষের সম্ভাবনা খুবই উজ্জ্বল।”

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) ক্রোপ বোটানি ও টি প্রোডাক্টশন টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ও জার্ম প্লাজমের প্রতিষ্ঠাতা ড. এ এফ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, “সিকৃবিতে সিলেট অঞ্চলে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কফি উৎপাদন নিয়ে গবেষণা চলছে। কফি অ্যারাবিকা ও  কফি রোভাস্টা এই দুই জাতের কফির গবেষণা চলছে এখানে। পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড় এবং বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় দুইশো কফির চারা সংগ্রহ করা হয়েছে।”

এদিকে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার আমুড়া ইউনিয়ন কমপ্লেক্স সংলগ্ন কদমরসুল গ্রামে প্রায় ৫০ বিঘা জায়গায় সাড়ে ৩ হাজার কফি গাছ নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে “কফি গার্ডেন। উঁচু নিচু টিলায় সারি সারি আনারস গাছের মধ্যে লাগানো হয়েছে কফির চারা। আগামী ৬ মাসের মধ্যে গাছে ফুল আসা শুরু করবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। 

বাগান সংশ্লিষ্টরা জানান, অনাবাদী টিলা চাষের আওতায় নিয়ে আসতে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সৈয়দ মাছুম আহমদ বাগান করার পরিকল্পনা নেন। এরই অংশ হিসেবে প্রায় ৫০ বিঘা জায়গা নিয়ে প্রথমে গড়ে তোলেন কফি বাগান। পরে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে টিলায় আবাদের জন্য কফির রোভাস্টা প্রজাতির ১৩৫টি ২৭০টি চারা দেওয়া হয়।

এছাড়া বাগান কর্তৃপক্ষ দুই হাজার কফি গাছের চারা সংগ্রহ করে রোপন করেন। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে আরও ১,১২৫টি কফির চারা দেওয়া হয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আরও সমপরিমাণ চারা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে বলে জানান তারা।

গোলাপগঞ্জ কফি গার্ডেনের ব্যবস্থাপক আবু সুফিয়ান ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, ব্যক্তি উদ্যোগে ও উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় তারা কফি বাগানটি গড়ে তুলেছেন। কফি গাছে আড়াই থেকে ৩ বছরের মধ্যে ফলন আসে এবং ৫০ থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, উপজেলা কৃষি অফিস চারা প্রদান, পরামর্শসহ সব ধরনের সহযোগিতা করছে। তিন বছর পর প্রতিটি কফি গাছ থেকে ৪-৬ কেজি কফি উৎপাদন হবে বলে ধারণা করছেন তারা। 

আবু সুফিয়ান জানান, শুধু কফি চাষই নয়, উদ্যোক্তারা বাগানের পাশেই টিলাবেষ্টিত লেকের পাশে গড়ে তুলেছেন কফি হাউস। শিগগিরই কফি হাউসের কার্যক্রম শুরু হবে।

গোলাপগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “পতিত জমি চাষের আওতায় আনা নিয়ে আসায় তাদের কৃষি বিভাগ সার্বক্ষণিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।”

আনারস, লেবু চাষ বৃদ্ধি, টিলা সংরক্ষণ, টিলা ধস রোধ, উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রে “কফি গার্ডেন” একটি সূচনা হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।