জোব্বা-তসবি দেখে শনাক্ত করা হয় গুলিস্তানে নিহত বাবুলকে

২৫ বছর ধরে ঢাকায় প্রেস প্রিন্টিং সাপ্লাইয়ের কাজ করতেন মানিকগঞ্জ পৌর এলাকার চরবেউথা গ্রামের বাবুল মোল্লা (৫৫)। তিনি সিদ্দিকীয়া দরবার শরিফের মুরিদ। শবে বরাত উপলক্ষে সিদ্দিকীয়া দরবার শরিফের পির ড. মো. মঞ্জুরুল ইসলামের ওয়াজ মাহফিল ছিল টাঙ্গাইলে। 

সেখানে যাওয়ার ব্যাপারে আলাপ করতে মঙ্গলবার (৭ মার্চ) রাজধানীর গুলিস্তানে সিদ্দিকবাজারে বন্ধুর দোকানে গিয়েছিলেন তিনি।

বাবুল শেষ পর্যন্ত যেতে পারেননি মাহফিলে। মঙ্গলবার সিদ্দিকবাজারে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। বাবুলের মরদেহ শনাক্ত করা হয় তার পরনে থাকা জোব্বা ও পকেটে থাকা তসবি দেখে। বুধবার গ্রামের বাড়িতে তাকে দাফন করা হয়। 

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন বাবুল। তাকে হারিয়ে পরিবারে চলছে শোকের মাতম। 

বুধবার ভোরের দিকে বাবুলের লাশ গ্রামে আনা হয়। বাবুলের বাড়িতে প্রতিবেশী ও স্বজনদের ভিড়। বাড়ির আঙিনায় খাটিয়ার ওপর নিথর বাবুলের মরদেহ। স্ত্রী নাজমা বেগম, তিন সন্তান আর স্বজনদের আহাজারিতে গ্রামের বাতাস যেন ভারি হয়ে উঠছিল। আকম্মিক এই মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা। তারা বিষ্ফোরণের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।

স্বজনরা জানান, বাবুলের এক ছেলে দুই মেয়ে। দুই মেয়ে মরিয়ম ও মারিয়ার বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র ছেলে মেহেদী হাসান সিদ্দিকীয়া দরবার শরিফ মাদ্রাসার ছাত্র।

নিহতের বন্ধু আবুল বাশার জানান, গুলিস্তানের সিদ্দিক বাজারের ওই ভবনের নিচতলায় তার বিসমিল্লাহ স্যানেটারি নামে একটি দোকান আছে। কাজের ফাঁকে বাবুল মাঝেমধ্যে সেখানে এসে আড্ডা দিতেন। টাঙ্গাইলে সিদ্দিকীয়া দরবার শরিফের মাহফিলে বন্ধুরা মিলে যাওয়ার কথা ছিল। ট্রেনের টিকিট ছিল বাবুলের কাছেই।

আবুল বাশার আরও জানান, মঙ্গলবার বিকেলে বাবুল তার দোকানে এসে টাঙ্গাইলে যাওয়ার বিষয়ে কথা বলছিলেন। বাবুলকে দোকানে বসিয়ে রেখে তিনি বাথরুমে যান। তখনই বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। নিচতলা ধসে পড়ে। চারদিক লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। ফিরে এসে তিনি ধ্বংসস্তপের মধ্যে বন্ধুকে খুঁজতে থাকেন। না পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। সেখানে ছুটে আসেন স্বজনরাও। ধ্বংসস্তুপে চাপা পড়ে বাবুলের মরদেহ বিকৃত হয়ে যায়। তার পরনের জোব্বা ও তসবি দেখে মরদেহ শনাক্ত করা হয়।

নিহতের স্বজন আব্দুর রশিদ জানান, বাবুলের শরীর থেকে একটি হাত বিচ্ছিন্ন ছিল। হয়তো হাতটি দুর্ঘটনাস্থলেই রয়ে গেছে। হাসপাতাল থেকে ভোররাত ৪টার দিকে তার মরদেহ বাড়িতে আনা হয়। বাড়ি আনার পথে সিদ্দিকীয়া দরবার শরিফে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সকাল ৯টায় বাড়ির পাশের মসজিদ প্রাঙ্গনে দ্বিতীয় জানাযা শেষে তাকে সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।