দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে এমনিতেই দমবন্ধ অবস্থা নিম্নআয়ের মানুষদের। এর মধ্যেই শবে বরাতকে উপলক্ষ করে বেড়েছে জিনিসপত্রের দাম। আসন্ন রমজানে আরও বাড়ার আশঙ্কা করছে সাধারণ মানুষেরা। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছে, পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ায় তারাও দাম বাড়িয়েছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, যেকোনো উপলক্ষে দাম বাড়ানোটা দেশে একটি রীতি হয়ে উঠেছে।
শুক্রবার (১০ মার্চ) সকালে রাজধানীর কয়েকটি বাজারে দেখা যায়, এক সপ্তাহের ব্যবধানে মাছ ও মাংসের দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে। এছাড়া কাঁচাবাজারে গরমে চাহিদা রয়েছে এমন সব সবজির দামও বেড়েছে। অন্যদিকে সব কিছুর দাম বাড়ায় ছুটির দিনে ক্রেতার সংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম।
বাজারে বর্তমানে গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহে ছিল ৭০০ থেকে ৭১০ টাকা। এছাড়া খাসির দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকায়। গত সপ্তাহে যা ১১০০ টাকায় বিক্রি হতো।
গরুর মাংসের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ হিসেবে মিরপুর ১১ নম্বর বাজারের “মহিউদ্দিন মাংস বিতানের” মালিক মহিউদ্দিন বলেন, “গরু লালন পালনের ব্যয় বাড়ায় মাংসের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক্ষেত্রে আমাদের করার কিছু নাই।”
মুরগির দাম গত এক মাস ধরে ঊর্ধ্বমুখী, এখন তা সর্বোচ্চ দামে পৌঁছেছে। সাদা ব্রয়লার এখন ২৫০ টাকা কেজি, সাদা লেয়ার ২৭০ টাকা, লাল লেয়ার ২৯০ টাকা, পাকিস্তানি কক ৩৫০ টাকা কেজি। গত সপ্তাহের তুলনায় যা ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে।
দাম বাড়ায় নিম্নআয়ের মানুষ আলাদা করে বিক্রির জন্য রাখা মুরগির ডানা-পা-গিলা-কলিজা কেনার দিকে ঝুঁকছে। সেগুলোও কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা করে।
মুরগির মাংসের দাম বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোকসানা বানু নামে এক ক্রেতা। তিনি বলেন, “আগে ১৪০ টাকা কেজিতে মুরগি পাওয়া যাইতো, সেই দামে এখন মুরগির হাবিজাবি কিনতে হচ্ছে। বাসায় বাচ্চাদের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে নিরূপায় হয়ে এসব কিনতে হচ্ছে। আমাদের দুঃখ দেখার কেউ নাই।”
মাছের বাজারে মাছের ধরন কমেছে। অধিকাংশ দোকানে পাঙাশ, তেলাপিয়া ও রুই মাছ বিক্রি করতে দেখা যায়। এ বিষয়ে দোকানদারেরা জানান, বেশি দামের মাছ বিক্রি হচ্ছে না। তবে কম দামের মাছেরও দাম বেড়েছে।
বাজারে পাঙাশ ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, তেলাপিয়া ১৬০ থেকে বেড়ে ১৭০ টাকা হয়েছে, রুই (নলা) ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি আকারের রুই ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে যা আগে ছিল ২৮০ টাকা। এছাড়া পুঁটি ২৪০ টাকা ও সিলভার কার্প ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া মুদির দোকানে পণ্যের দাম আগের মতোই উর্ধ্বমুখী। এই সপ্তাহে কোনো পরিবর্তন নেই।