বগুড়ায় বৃষ্টিতে গাছ মরে গেছে ও আমদানি কম এমন অজুহাতে কাঁচা মরিচের দাম বেড়েই চলেছে। প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ পাইকারি ৩০০ ও খুচরা ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচের দাম ১০ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৩২০ টাকায় বিক্রি হয়। এ ছাড়া অন্যান্য শাক-সবজির দাম বেড়েই চলেছে।
এদিন বিকেলে রাজাবাজার আড়ৎদার ও ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পরিমল প্রসাদ রাজ জানান, আবহাওয়া ভালো হচ্ছে। দুই-এক দিনের মধ্যে কাঁচা বাজার স্থিতিশীল হবে।
বগুড়া মহানগরের রাজাবাজার, ফতেহআলী বাজার, ফুলবাড়ি বাজার, নামাজগড় বাজার ও গোদারপাড়া বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত সপ্তাহে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে মঙ্গলবার প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ পাইকারি ৩০০ টাকা ও খুচরা ৩২০ টাকায় বিক্রি হয়। প্রায় ১০ গুণ বেশি দরে বিক্রি হওয়ায় বিক্রেতার সঙ্গে ক্রেতাদের বাগবিতণ্ডা হচ্ছে।
কাটনারপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান, নিশিন্দারার আবদুর রাজ্জাক, বৃন্দাবনপাড়ার আবদুল খালেক প্রমুখ ক্রেতা জানান, গত সপ্তাহে তারা প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা দরে কিনেছেন। সেই মরিচ মঙ্গলবার ৩২০ টাকা কেজি চাওয়া হচ্ছে।
তারা মন্তব্য করেন, এভাবে কাঁচা মরিচের দাম বাড়লে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে কেনা সম্ভব হবে না।
মরিচের পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, বগুড়া জেলার সবচেয়ে বড় পাইকারি হাট মহাস্থানে মরিচ সাড়ে ১১,০০০ থেকে ১২,০০০ টাকা মণ বিক্রি হয়েছে। সে হিসাবে প্রতি কেজি মরিচের দাম প্রায় ৩০০ টাকা। এ মরিচ বাজারে আনতে গাড়ি ভাড়া ও শ্রমিক খরচ হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম বলেন, “চলতি বছর জেলায় ৫,৫৪০ হেক্টর জমিতে কাঁচা মরিচ চাষাবাদ হয়েছে। বর্ষার কারণে মরিচ গাছগুলো পচে মরে যাচ্ছে। এ জন্য বাজারে সরবরাহ কম। ফলে দাম বেড়েই চলেছে।”
রাজাবাজার আড়তদার ও ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পরিমল প্রসাদ রাজ বলেন, “কয়েক দিনের বৃষ্টিতে জমিতে মরিচের ক্ষতি হয়েছে। এ কারণে বাজারে আমদানি কম। ব্যবসায়ীরা অন্য জেলা থেকে কাঁচা মরিচ এনে বিক্রি করছেন। ফলে মঙ্গলবার জেলার খুচরা হাট-বাজারগুলোতে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হয়।”
তিনি আরও বলেন, আবহাওয়া ভালো হচ্ছে, আশা করা যায় ২-১ দিনের মধ্যে বাজার স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
অন্যদিকে বাজারগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে, শুধু কাঁচা মরিচ নয়; অন্যান্য শাকসবজির দাম প্রতি কেজিতে ২০ টাকা থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে আলু ও পেঁপের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।
কাঁচা মাল ব্যবসায়ী মিজান শেখ জানান, গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে শাক-সবজির গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে বাজারে আমদানি কম। তাই প্রায় সব কাঁচা শাক-সবজির দাম কেজিতে ২০ টাকা থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।



