বেইলি রোডে আগুন: ৪৩ মরদেহ হস্তান্তর, হাসপাতালে ‘আশঙ্কাজনক’ পাঁচজন

রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৪৬ জনের মধ্যে থেকে এখন পর্যন্ত ৪৩ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শনিবার (২ মার্চ) দুপুর ১টায় ঢাকার অতিরিক্ত জেলা মেজিষ্ট্রেট একেএম হেদায়েতুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে দুটি এবং শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে একজনের মরদেহ রয়েছে।

এর আগে, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪০ জনের মরদেহ হস্তান্তর করে কর্তৃপক্ষ। শনিবার সকালে স্বজনদের আরও তিনজনের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।

এখন ঢাকা মেডিকেলে যে দুজনের লাশ আছে, তাদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। অপরদিকে শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে থাকা সাংবাদিক অভিশ্রুতি শাস্ত্রীর পরিচয় জটিলতায় তার লাশও হস্তান্তর করেনি কর্তৃপক্ষ।

ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ওই তিনজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন হেদায়েতুল ইসলাম।

এদিকে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডে আহতদের মধ্যে পাঁচজন এখনও শঙ্কামুক্ত নন।

শনিবার বেলা ১১টায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আহত রোগীদের দেখার পর সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “বার্ন ইনস্টিটিউটে সকাল পর্যন্ত ১১ জন আহত রোগী ছিলেন। তাদের মধ্যে ৫ জন হাসপাতালেই থাকবেন, কারণ তারা এখনো কেউ শঙ্কামুক্ত নন। আর বাকি ৬ জনকে আমরা ছেড়ে দেব, তারা মোটামুটি ভালো আছে।”

আশঙ্কাজনকদের নিয়ে সামন্ত লাল বলেন, “তাদের শ্বাসনালী পুড়ে গেছে, একটু কমপ্লিকেশন আছে। যার জন্য আমরা তাদের রেখে দিয়েছি। তাদেরকে আরও কয়েকদিন পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব কী করা যায়।”

গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে গ্রিন কোজি কটেজ নামের ভবনে আগুন লাগার পর তা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। নিচতলায় লাগা আগুন উঠে যায় ওপরের সাত তলা পর্যন্ত।

ভবনটির দোতলায় ছিল বিরিয়ানির পরিচিত খাবার দোকান “কাচ্চি ভাই”-এর শাখা, পোশাকের ব্র্যান্ড ইলিয়েন, নিচের তলায় স্যামসাং এর শোরুমসহ আরও বেশ কিছু দোকান। স্যামসাংয়ের শোরুমের পাশে রয়েছে একটি কফি শপ। এরকম কফির দোকানসহ ফাস্টফুডের অনেকগুলো দোকান ও রেস্তোরাঁ রয়েছে ভবনটিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে।

আগুন লাগার পর প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে আগুন নেভাতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস। এরপরই আসতে থেকে একের পর এক মৃত্যুর খবর।