রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় দেশজুড়ে ষষ্ঠ দফায় হিট অ্যালার্ট জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তীব্র গরমে জনজীবনে অস্বস্তি পৌঁছেছে চরমে। ভারি বৃষ্টিপাত ছাড়া গরমের তীব্রতা কমার সম্ভাবনা নেই বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
তবে আপাতত সুখবর হলো, বৃষ্টির আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।মে মাসের প্রথম সপ্তাহে সারাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রঝড় ও কালবৈশাখী ঝড় হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।তবে তাপমাত্রা দুই থেকে ছয় ডিগ্রি পর্যন্ত কমতে পারে। তবে, তাতেও স্বস্তিকর পরিবেশ বেশিদিন স্থায়ী হবে না বলেই আশঙ্কার কথা জানাচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা।
সাধারণত বাংলাদেশে এপ্রিল মাসে দুই থেকে তিনটি তাপপ্রবাহ বয়ে গেলেও এ বছর তাপপ্রবাহের ব্যাপ্তিকাল দীর্ঘ হবে হবে বলে আগেই আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন আবহাওয়াবিদরা। এপ্রিলের প্রচণ্ড গরমের এই রেশ মে মাসেও থাকবে, এমনকি এপ্রিলের চেয়ে মে মাসের গরমের তীব্রতা বেশি হতে পারে বলেও আশাঙ্কা করা হচ্ছে।
এই যখন অবস্থা তখন এ বছর বাংলাদেশে বেশি গরমের মতো বৃষ্টিপাতও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে শুধু বাংলাদেশ নয়, চলমান মৌসুমের গরমের মতো দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে এ বছর বৃষ্টিপাতও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সোমবার (২৯ এপ্রিল) থেকে ভারতের পুনে শহরে সাউথ এশিয়ান ক্লাইমেট আউটলুক ফোরামের ২৮তম সম্মেলনে শুরু হয়েছে। ওই সম্মেলনেই বিষয়টি উঠে এসেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো।
প্রতিবেদনে বলা হয়,সম্মেলনে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে চলমার মৌসুমের প্রচণ্ড গরম নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে আলোচনার মূল বিষয় ছিল আসন্ন বর্ষা মৌসুম (জুন-সেপ্টেম্বর) নিয়ে।
সম্মেলনে আগামী মাসগুলোর আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়ে এ অঞ্চলের শীর্ষ আবহাওয়াবিদেরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, এবার বর্ষায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হতে পারে।
আর বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, দেশে বর্ষায় বৃষ্টি যেমন বেশি হবে, তেমনি বাংলাদেশের উজানে ভারতের রাজ্যগুলোতেও বৃষ্টি বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সবমিলিয়ে বর্ষায় বাংলাদেশে বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।
মঙ্গলবার সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে কারিগরি অধিবেশন শেষে বর্ষা মৌসুমে আবহাওয়া পরিস্থিতি কী দাঁড়াতে পারে, তা নিয়ে একটি বিবৃতি প্রচার করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে এ অঞ্চলের আবহাওয়া থেকে “এল নিনো” দুর্বল হয়েছে, “লা নিনা” সক্রিয় হয়েছে। অর্থাৎ, শিগগিরই এই অঞ্চলে বৃষ্টি শুরু হবে।
এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বেশিরভাগ দেশে এবার বর্ষা শক্তিশালী হয়ে উঠবে। বাংলাদেশের তাপপ্রবাহের এলাকাগুলোতে এবার বৃষ্টিও বেশি হবে। সিলেট ও চট্টগ্রামে এবার তাপপ্রবাহের দাপট কম ছিল। সেখানে এবার বৃষ্টিও কম হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এল নিনো সক্রিয় হলে প্রশান্ত মহাসাগর থেকে ভারত মহাসাগর হয়ে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত একটি শুষ্ক রেখা তৈরি হয়। এর উল্টো অবস্থা হলো লা নিনা। এটি তৈরির সময় শুষ্ক রেখাটি উষ্ণ রেখায় পরিণত হয়। এতে বাতাসে জলীয় বাষ্প বেড়ে গিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি বেড়ে যায়।
সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ। তিনি ভারত থেকে মোবাইল ফোনে প্রথম আলোকে বলেন, “সম্মেলনে মূল আলোচ্য বিষয় ছিল আগামী বর্ষা মৌসুম। আবহাওয়াবিদেরা তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, এবারের বর্ষায় বৃষ্টি বেশি হবে।”
তিনি জানান, বাংলাদেশের উজানে ভারতের পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলো, অর্থাৎ আসাম, মেঘালয়, পশ্চিমবঙ্গসহ কয়েকটি রাজ্যে বৃষ্টি বেশি হতে পারে বলে সম্মেলনে উল্লেখ করেছেন আবহাওয়াবিদেরা। ওই বৃষ্টি বাংলাদেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়বে। ফলে দেশের উত্তরাঞ্চলসহ মধ্যাঞ্চলে প্রতিবছর যে বন্যা হয়, তা এবার আরও ব্যাপক রূপ নিতে পারে।