রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে মাঝারি থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। যা অব্যাহত থাকতে পারে জানিয়ে দেশজুড়ে পঞ্চম দফায় হিট অ্যালার্ট জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। কোনো বিশাল এলাকাজুড়ে যখন তাপপ্রবাহ হয়, তখন এরকম সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।
তীব্র গরমে জনজীবনে অস্বস্তি পৌঁছেছে চরমে। এ অবস্থায় দেশজুড়ে তাপমাত্রা আরও বাড়ার আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ভারি বৃষ্টিপাত ছাড়া গরমের তীব্রতা কমার সম্ভাবনা নেই বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
মে মাসের প্রথম সপ্তাহে সারাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রঝড় ও কালবৈশাখী ঝড় হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। তখন তাপমাত্রা দুই থেকে ছয় ডিগ্রি পর্যন্ত কমতে পারে। তবে, তাতেও স্বস্তিকর পরিবেশ বেশিদিন স্থায়ী হবে না বলেই আশঙ্কার কথা জানাচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা।
এ বিষয়ে আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলাকে বলেন, “চলতি মাসে গরম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে পহেলা মে থেকে বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ঢাকার কিছু এলাকার তাপমাত্রা কমবে। তবে খুলনা, রাজশাহী, রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলার তাপমাত্রা কমলেও তাপপ্রবাহ চলমান থাকবে।”
সাধারণত বাংলাদেশে এপ্রিল মাসে দুই থেকে তিনটি তাপপ্রবাহ বয়ে গেলেও এ বছর তাপপ্রবাহের ব্যাপ্তিকাল দীর্ঘ হবে হবে বলে আগেই আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন আবহাওয়াবিদরা। এপ্রিলের প্রচণ্ড গরমের এই রেশ মে মাসেও থাকবে, এমনকি এপ্রিলের চেয়ে মে মাসের গরমের তীব্রতা বেশি হতে পারে বলেও আশাঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে, ১৯৭২ সালের মে মাসেই বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৫.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছিল। এছাড়া, প্রায় প্রতিবছরই মে মাসে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে দুই থেকে তিনটি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। তাই, এবারের মে মাস ভয়ংকর হতে পারে বলেই বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞের ধারণা।
এ বিষয়ে আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বিবিসি বাংলাকে বলেন,“কখনও কখনও মে মাসে তীব্র তাপপ্রবাহ ও অতি তীব্র তাপপ্রবাহেরও রেকর্ড রয়েছে। সুতরাং, জলবায়ু অনুযায়ী, মে মাসেও তাপপ্রবাহ বয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছি।”
এছাড়া বর্ষাপূর্ববর্তী, এমনকি বর্ষাকালেও তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের তাপমাত্রায় এটি এখন দেখা যাচ্ছে যে তাপপ্রবাহ শুধু মার্চ, এপ্রিল, মে মাসে না; মনসুন পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হয়। গতবারও জুন, জুলাই, আগস্ট, সেপ্টেম্বর মাসে তাপপ্রবাহ ছিল।”
বাংলাদেশে বর্তমানে টানা ২৭ দিন তাপপ্রবাহ বইছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে এপ্রিল একক মাস হিসেবে এরকম দীর্ঘমেয়াদে তাপপ্রবাহ ছিল না।”
আবহাওয়ার এমন অস্বাভাবিক আচরণের কারণ হিসেবে তিনি বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে দায়ী করেন।
প্রসঙ্গত, ৩৮ ডিগ্রি থেকে ৩৯.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে মাঝারি তাপপ্রবাহ এবং ৩৬ ডিগ্রি থেকে ৩৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলা হয়ে থাকে। ৪০ ডিগ্রি থেকে ৪১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়ে থাকে।
এ বছর এখন পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায় ৪২.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।



তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি, ‘ফিলস লাইক’ কেন ৪৬?