কক্সবাজারে পর্যটকদের ঢল, খালি নেই হোটেল-মোটেল

দুর্গাপূজার সরকারি ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি মিলে চার দিনের লম্বা ছুটি। আর এই ছুটির সময় টা পরিবারের সঙ্গে কাটাতে পর্যটকরা ছুটে আসছেন কক্সবাজারে। সমুদ্র সৈকত ছাড়াও হিমছড়ি, ইনানী বিচ, দরিয়া নগর পাটুয়ার টেকসহ সবগুলো পর্যটন স্পটে সমাগম ঘটেছে পর্যটকের। পর্যটকদের পাদচারণায় মুখর এখন এসব এলাকা।

শুক্রবার (১১ অক্টোবর) সরকারি ছুটি উপলক্ষে ২ দিন সবগুলো হোটেলে শতভাগ বুকিং রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে পর্যটকদের যাতায়াত নিরুৎসাহিত করায় কক্সবাজারে বেড়েছে পর্যটক। তাদের নিরাপত্তায় নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসব উপলক্ষে ছুটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাপ্তাহিক ছুটিও। আর এই সুযোগে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতে নেমেছে পর্যটকের ঢল।

শুক্রবার বিকালে কক্সবাজার সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে কথা হয় ঢাকা মোহাম্মদপুর থেকে আসা পর্যটক শাহরিয়ার, রুমেল ও রুমোর সঙ্গে। তারা জানান, টানা ছুটি পেয়ে ২০ জন বন্ধু মিলে পরিবার নিয়ে এসেছেন কক্সবাজারে। গরমের এই সময়ে সাগরের পানিতে তাদের ক্লান্তি দূর হয়ে যাচ্ছে বলে জানান তারা।

দিনাজপুর থেকে আসা পর্যটক নাহিদা জানান, দেশের চলমান পরিস্থিতির মাঝেও ছুটি পেয়ে কক্সবাজার বেড়াতে আসছেন অনেকদিন পরে। কাজের চাপসহ সব ক্লান্তি ভুলে এখানে সময় পার করছেন তারা।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি এস এম কিবরিয়া বলেন, “আমাদের মাধ্যমে অনেকেই এসেছেন কক্সবাজারে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সফর বাতিল করে অনেক পর্যটক এখন কক্সবাজারে। পার্বত্য চট্টগ্রামে পর্যটকদের নিরুৎসাহিত করার কারণে কক্সবাজারে বেড়ে গেছে পর্যটকের আগমন। তবে সেন্টমার্টিন যেতে পারলে আমাদের বুকিং আরও বেড়ে যেত।”

কক্সবাজার কলাতলী মেরিন ড্রাইভ রোড হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি মৌখিম খান বলেন, “শুক্রবার-শনিবার সবগুলো হোটেলের শতভাগ বুকিং হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ও রবিবার কিছুটা কম। তবে সব মিলিয়ে ভালো ব্যবসা হবে এবার।”

কক্সবাজারে সাড়ে চার শতাধিক হোটেল-গেস্ট হাউস রয়েছে। তার মধ্যে স্টার মানের হোটেল রয়েছে অর্ধশত। এসব স্টার মানের হোটেলে শতভাগ বুকিং রয়েছে বলে ঢাকা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি আব্দুল কায়ুম চৌধুরী।

কক্সবাজার রেস্টুরেন্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম ডালিম ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমাদের প্রায় সাড়ে তিনশতাধিক রেস্টুরেন্ট রয়েছে। অনেকদিন পর সবগুলো রেস্টুরেন্ট খুলে ব্যবসা করছে। মন্দার কারণে আমাদের অনেক রেস্টুরেন্ট এতদিন বন্ধ ছিল। আশা করি এখন থেকে ব্যবসা ভালো হবে।”

তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইস লিমিটেডের পরিচালক আবদুল কাদের মিশু বলেন, “দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে পর্যটন ব্যবসায়ীদের। নিয়মিত ব্যবসা না থাকলে ঋণের ওপর প্রতিষ্ঠান চালানো হাতি পোষার মতো। ২০১২ সাল থেকে কোনো না কোনো কারণে ভর মৌসুমেও পর্যটক শূন্য সময় কাটাতে হচ্ছে। তবে ভ্রমণপিপাসুদের সেবা দিতে আমরা সবসময় প্রস্তুত থাকি। এবারের চারদিনের ছুটিতে আমরা ৯৫% বুকিং পেয়েছি। এরপর ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত বুকিং রয়েছে ৮০-৮৫ ভাগ রুম। মৃত প্রায় পর্যটনে সতেজতা ফেরাতে আমরা অধিকাংশ ৪০-৪৫% এবং ক্ষেত্র বিশেষে ৫০% ছাড়ও দিয়েছি। পর্যটকদের ভোজনে ভিন্নস্বাদ দিতে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ উৎসবের আয়োজন রয়েছে। যদিও এর যাত্রা ছিল তিনদিনের। কিন্তু ভোজন রসিকদের জন্য ২০ অক্টোবর পর্যন্ত করা হয়েছে। যে কেউ চাইলে স্বল্পমূল্যে ৮ ক্যাটাগরির ইলিশ রান্নার স্বাদ নিতে পারেন।”

কক্সবাজারে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করছে টুরিস্ট পুলিশ।

টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পুলিশ সুপার আল আসাদ মুহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম পিপিএম বলেন, “পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে আমাদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও রয়েছে। আমরা আইটির মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিতের কাজ করছি। টহলগুলো অব্যাহত থাকবে সব সময়।”

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, “পূজার টানা ছুটিতে কক্সবাজারের বিপুল সংখ্যক পর্যটকের সমাগম হওয়ায়, জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেল থেকে বিশেষ মনিটরিং ব্যবস্থা শুরু হয়েছে। কোন পর্যটক যাতে হয়রানি শিকার না হয় সে বিষয়টি তদারকির জন্য ভ্রাম্যমান আদালতের ব্যবস্থা করা হয়েছে।”