শারদীয় দুর্গাপূজা আর সাপ্তাহিক বন্ধকে সামনে রেখে চার দিনের সরকারি ছুটিতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে সাগরকন্যা কুয়াকাটায়। পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল থেকেই পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে। উত্তাল সমুদ্রে ঢেউয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠেন নানা বয়সী পর্যটকরা।
এ বিষয়ে কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ বলেন, “দীর্ঘদিন পরে কুয়াকাটায় পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ছে। ফলে আমাদের ব্যস্ততাও বেড়েছে। আশা করি, সামনের দিনেও এমন দৃশ্য চোখে পড়বে।”
তবে সৈকতের বেহাল দশা দেখে হতাশ আগত পর্যটকরা। তারা বলছেন, এত সুন্দর সৈকতের এমন বিশ্রী অবস্থা! যত্রতত্র পড়ে আছে জিও টিউব আর জিও ব্যাগ। এসবের মাঝে উপভোগ করা যায় না আসল সৌন্দর্য। তবে হোটেল মোটেল রিসোর্টগুলোতে স্বাভাবিক ভাড়ায় রুম পেয়ে খুশি পর্যটকরা।
এ বিষয়ে পর্যটক হাসান মাহমুদ মিয়াত বলেন, “আমি এই প্রথম কুয়াকাটায় বেড়াতে এলাম। সৈকত আর সাগরের ঢেউ আমাকে বেশ মুগ্ধ করেছে। তবে জিওটিউব ও জিও ব্যাপ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায় সৈকতটি শ্রীহীন হয়ে পড়েছে।”
বেস্ট সাউদার্ন আবাসিক হোটেলের জেনারেল ম্যানেজার আবুল কালাম বলেন, “আমাদের আবাসিক হোটেলের শতভাগ রিজার্ভেশন হয়েছে। অনেকদিন পরেই এমন পর্যটক এলো কুয়াকাটায়। আমরা তাদের চাহিদাকে সব সময়ই অগ্রাধিকার দিই।”
অনেকেই সৈকতের ফটোগ্রাফার দিয়ে ছবি তুলছেন, কেউ কেউ ছাতার নিচে বসে সমুদ্র ও সমুদ্রের ঢেউ উপভোগ করছেন, আবার কেউ ঘোড়ার পিঠে চড়ে সৈকতের প্রকৃতি দেখছেন।
সৈকতের ক্যামেরাম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “গতকাল থেকেই মোটামুটি পর্যটক আসা শুরু হয়েছে। আজ ভালোই পর্যটক বাড়ছে। আমরা আমাদের সংকট কাটাতে পারবো।”
সৈকত লাগোয়া খাবার হোটেলের ব্যবস্থাপক মো. সেলিম বলেন, “বিগত দিনে বেচাকেনা খুবই খারাপ ছিল। গতকাল ভালোই বিক্রি হয়েছে। আজ আরও বাড়বে।”
ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিওনের পুলিশ সুপার (এসপি) আনসার উদ্দিন বলেন, “আমরা সম্পূর্ণভাবে পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য প্রস্তুত। দেশে চলমান অস্থিরতা কেটে যাওয়ার ফলে পর্যটক বাড়ছে কুয়াকাটায়। তাদের নিরাপদ ভ্রমণে যা যা করা দরকার তার সব করা হবে।”