ঘন কুয়াশায় মেঘনা নদীতে ২ লঞ্চের সংঘর্ষ

ঘন কুয়াশার কারণে মেঘনা নদীতে ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে যাত্রীবাহী দুই লঞ্চের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। লঞ্চ দুটি হলো “প্রিন্স আওলাদ-১০” ও “কীর্তনখোলা-১০”। এ ঘটনায় দুটি লঞ্চগুলোর অগ্রভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

শনিবার (২১ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত সোয়া ২টা থেকে আড়াইটার দিকে এ সংঘর্ষ হয় বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএ বরিশালের উপ-পরিচালক ও নদী বন্দর কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাজ্জাক।

রবিবার সকালে তিনি জানান, “দুর্ঘটনার পর ‘এমভি কীর্তনখোলা-১০’ যাত্রী নিয়ে ঢাকায় আসতে পারলেও ‘এমভি প্রিন্স আওলাদ-১০’ নামের অপর লঞ্চটি ঘটনাস্থলের কাছাকাছি নিরাপদ স্থানে রাতভর নোঙর করে রাখা হয়।”

রবিবার সকালে ওই লঞ্চের ৫৮০ জন যাত্রীকে “এমভি শুভরাজ-৯” লঞ্চের মাধ্যমে বরিশালে নিয়ে আসা হয় বলে জানান তিনি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ঢাকা সদরঘাট দপ্তরের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন।

“এমভি কীর্তনখোলা-১০” লঞ্চের এক যাত্রী বলেন, “রাতে নদীতে এত কুয়াশা ছিল যে, একহাত সামনেও কিছু দেখা যাচ্ছিল না। এর মাঝেই হঠাৎ বরিশালগামী ‘এমভি প্রিন্স আওলাদ-১০’ লঞ্চের সঙ্গে আমাদের ‘এমভি কীর্তনখোলা-১০’ লঞ্চের সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় লঞ্চের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর চালক কীর্তনখোলা ১০ লঞ্চকে তাৎক্ষণিক নদী তীরে নিয়ে যাওয়া হয়। সবকিছু পরীক্ষা করে দেখার পর আবার ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।”

ফাইল ছবি: কীর্তনখোলা-১০ লঞ্চ/সংগৃহীত

তিনি আরও বলেন, “সংঘর্ষে এমভি কীর্তনখোলা ১০ লঞ্চের সামনে রাখা যাত্রীদের ২০টির বেশি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোনো যাত্রী হতাহতের খবর পাইনি।”

প্রিন্স আওলাদ-১০ লঞ্চের যাত্রী মেহেদী হাসান বলেন, “বিকট শব্দ আর লঞ্চ দুলার কারণে ঘুম ভেঙে যায়। কেবিন থেকে বের হয়ে দেখি ঘন কুয়াশা, একহাত সামনেও কিছু দেখা যাচ্ছে না। পরে লঞ্চের সামনের অংশে গিয়ে দেখি কীর্তনখোলা-১০ নামের অন্য একটি লঞ্চের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আওলাদ-১০ লঞ্চের নীচের একটি অংশ ফেটে যায়।  সেখান থেকে লঞ্চের ভেতর পানি প্রবেশ করছিল, তাই ঝুঁকি এড়াতে লঞ্চটি আর চালনা করা হয়নি।”