ঢাকার ধানমন্ডি এলাকার বাংলাদেশ আই হসপিটাল অ্যান্ড ইনস্টিটিউটে ১৮ মাস বয়সী শিশুর ভালো চোখে “অস্ত্রোপচার” করার অভিযোগে আটক চক্ষুরোগ–বিশেষজ্ঞ সাহেদ আরা বেগমকে জামিন দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাসুমা রহমান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওই চিকিৎসককে কারাগারে রাখার আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক জামিন মঞ্জুর করেন।
গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে শিশুটির বাবা মো. মাহমুদ হাসান চিকিৎসককে আসামি করে ধানমন্ডি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর একই দিন রাত ২টার দিকে এলিফ্যান্ট রোডের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদ বলেন, “৩৫ বছরের ডাক্তারি জীবন তার। তিনি একজন সিনিয়র ডাক্তার। বামের বদলে ডান চোখে চিকিৎসা করার অভিযোগ। শিশুটির চোখে পাপড়ি ঢুকে গেছে। সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে দেখা যায়, বাম চোখেও একই অবস্থা। মারাত্মক সিরিয়াস কিছু না। জামিনযোগ্য ধারা। গুরুতর অভিযোগ নাই। তার জামিনের প্রার্থনা করছি।”
জানা গেছে, চোখে সমস্যার কারণে দেড় বছরের শিশু ইরতিজাকে মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশ আই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বাম চোখের মধ্যে ময়লা জাতীয় বস্তুর উপস্থিতি নিশ্চিত করেন চিকিৎসক। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করে তাকে অস্ত্রোপচার কক্ষে নেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, চিকিৎসক ভুল চিকিৎসার বিষয়টি মৌখিকভাবে স্বীকার করলেও তা নথিভুক্ত করেননি। পরে তিনি ও তার সহকর্মীরা কিছু না জানিয়ে হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান।
এ বিষয়ে হাসপাতালের চিফ অপারেটিং কর্মকর্তা কাজী মেজবাহুল আলম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, শিশুটির চোখের পাতার নিচে ফরেন বডি (চোখের পাপড়ি) ও ঘর্ষণজনিত সমস্যা থাকায় তা বের করে আনা হয়। এটি অস্ত্রোপচার নয়। শিশুটির বয়সের কারণে আউটডোরে চিকিৎসা না করে তাকে অস্ত্রোপচারের কক্ষে নেওয়া হয়। তাকে এক্সামিনেশন আন্ডার অ্যানেসথেসিয়া দেওয়া হয়। প্রথমে ডান চোখের পাপড়ি সরানো হয়। পরে শিশুটির মা-বাবার কথার পরিপ্রেক্ষিতে বাঁ চোখ আবার পরীক্ষার জন্য অস্ত্রোপচারের কক্ষে নেওয়া হয়। বাঁ চোখ থেকেও চোখের পাপড়ি সরানো হয়। শিশুটির চোখ ব্যান্ডেজ করে দেওয়া হয়।
ওই বিবৃতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরও বলেছে, এটি এ ধরনের চিকিৎসার প্রচলিত পদ্ধতি। অস্ত্রোপচার নয়। পরবর্তী সময় চিকিৎসাব্যবস্থা অনুসরণ করলে শিশুটির চোখে কোনো ক্ষতি হবে না। এ নিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন করবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।