রংপুর বিভাগের ঘরমুখো হাজার হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ

ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে নাড়ির টানে রাজধানীসহ আশেপাশের এলাকা থেকে বাবা-মা স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে রংপুর বিভাগের সাত জেলার হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারন করেছে। ঢাকা থেকে রংপুর বিভাগের প্রবেশ দ্বার মডার্ন মোড়ে আসতেই লাগছে ১৮ থেকে ২০ ঘণ্টা ।

তার ওপর বাসের টিকিট না পাওয়ায় হাজার হাজার নারী, পুরুষ ও শিশুদের খোলা ট্রাকের ওপর দাঁড়িয়ে ১৮ থেকে ঘণ্টা ধরে যানজটে নাকাল হয়ে আসতে হচ্ছে।

শুক্রবার (৬ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দেখা যায় শত শত বাস ট্রাকের সারি। একটার পর একটা বাস ও ট্রাক আসছে মডার্ন মোড়ে।

এখান থেকে যাত্রীরা গাড়ি বদল কলে আন্তঃজেলাসহ বিভিন্ন গাড়িতে করে লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও বা পঞ্চগড়ে যাচ্ছেন। আবার রংপুর নগর ও জেলার যাত্রীরা মডার্ন মোড়ে নেমে অটোরিকশা, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে যাচ্ছেন নিজেদের বাড়িতে।

ঢাকা থেকে বিভিন্ন জেলায় ঈদ উদযাপন করতে আসা যাত্রীরা বললেন, বাইপাইল, আব্দুল্লাপুর, গাজীপুর, ঢাকা থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে রওয়ানা দিয়ে ২০ ঘণ্টা সময় লেগেছে মডার্ন মোড়ে আসতে। যমুনা সেতু পর্যন্ত আসতেই ১০ ঘণ্টা লেগেছে। এ ছাড়া টাঙ্গাইল থেকে শুরু করে বগুড়া হয়ে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ আসতে সময় লাগছে ১০ ঘণ্টা। মহাসড়কে যানবাহনের চাপ থাকায় চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন তারা।

সরেজমিন মডার্ন মোড়ে গিয়ে দেখা গেছে, কক্সবাজার থেকে রংপুরের বদরগঞ্জে যাবার জন্য বাসে করে এসেছেন নাজমুল আলম। তিনি জানান, কক্সবাজার থেকে রংপুরে আসতে তার ৩৬ ঘণ্টা সময় লেগেছে। মহাসড়কে অসহনীয় যানজটে পরিবহন ধীরে চলাচল করছে। কোথাও কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সাধারণত সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টা লাগে কক্সবাজার থেকে রংপুরে আসতে। কিন্তু ঈদ উপলক্ষে সময় লাগলো ৩৬ ঘণ্টা।

এদিকে, ঢাকার বাইপাইল থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় বাসে উঠেছেন নাজমা বেগম। তিনি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। রংপুরে আসতে সময় লেগেছে ২০ ঘণ্টা। তিনি জানান, তার বাড়ি লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রামে। মডার্ন মোড় থেকে সেখানে যেতে আরও ৫-৬ ঘণ্টা লাগবে। এতো কষ্ট করে আসা যায় নাকি। মহাসড়কে গাড়ি চলাচলে কোনো শৃংখলা নেই। আইনশৃংখলা বাহিনী তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে বলে মনে হলো না। তার পরেও বাবা-মা আর শশুর-শাশুড়ির সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পারবো বলে ভালো লাগছে।

মডার্ন মোড়ে নেমে যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, ঢাকা-রংপুর বাস ভাড়া ৮০০ স্থলে ১,৫০০ টাকা দিতে হয়েছে। ট্রাকে দাঁড়িয়ে আসতেও ৫০০-৬০০ টাকা ভাড়া দিতে হয়েছে।

যাত্রীদের অভিযোগ, এখনও রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের পলাশবাড়ি, গোবিন্দগঞ্জ, বগুড়া, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, ঢাকার বাইপাইলসহ বিভিন্ন স্থানে অন্তত দেড় থেকে দুলাখ যাত্রী আটকা পড়ে আছে। মহাসড়কের যে অবস্থা তাতে করে অনেক যাত্রী ঈদের নামাজও আদায় করতে পারবে কি না সন্দেহ।

তবে মডার্ন মোড়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আসা যাত্রীবাহি বাস ও ট্রাকগুলোকে বেশিক্ষণ দাঁড়াতে দিচ্ছে না সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা। তারা যানজট সৃষ্টি না করতে বার বার মাইকিং করছেন।

রংপুর মেট্রোপলিটান পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী জানান, রংপুর বিভাগের প্রবেশ দ্বার মডার্ন মোড়ে যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যরাও কাজ করছেন।