উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পড়াশোনা করা বিশ্বের লাখো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন। তবে টিউশন ফি, আবাসন ও আনুষঙ্গিক ব্যয়ের কারণে অনেকের কাছেই সে স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়। তবু যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক সহায়তা ও বৃত্তির সুযোগ দিয়ে থাকে, যা বিদেশে পড়াশোনাকে কিছুটা সহজলভ্য করে তুলেছে।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়
হার্ভার্ড কলেজের গ্রিফিন ফাইন্যান্সিয়াল এইড অফিস আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। পরিবারের বার্ষিক আয় ১ লাখ ডলার বা তার কম হলে শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণ বিনা খরচে পড়াশোনার সুযোগ পেতে পারেন। এর আওতায় টিউশন ফি, আবাসন, খাবার, স্বাস্থ্যবিমা, যাতায়াত ব্যয় এবং প্রথম বর্ষে দুই হাজার ডলারের স্টার্ট-আপ অনুদান অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যেসব পরিবারের আয় দুই লাখ ডলারের কম, তাদের জন্যও টিউশন ফি সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়।
ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি)
কোয়াকুয়ারেলি সাইমন্ডস (কিউএস) র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, পরপর দুই বছর বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পেয়েছে এমআইটি। বিশ্ববিদ্যালয়টির স্টুডেন্ট ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস বিভাগ শিক্ষার্থীদের পারিবারিক আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে সহায়তার ব্যবস্থা করে। যেসব পরিবারের বার্ষিক আয় ১ লাখ ডলারের (প্রায় ৯৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা) কম, তাদের জন্য বৃত্তি বা অনুদানের সুযোগ নিশ্চিত করা হয়। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে এমআইটির প্রায় ৩৯.৪৭% স্নাতক শিক্ষার্থী এমন বৃত্তি পেয়েছেন, যার পরিমাণ টিউশন ফির সমান বা তার বেশি।
ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়
আবেদনকারীর আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা না করেই ভর্তিপ্রক্রিয়া পরিচালনা করে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষার্থীদের পরিবারের প্রদর্শিত আর্থিক চাহিদার শতভাগ পূরণের প্রতিশ্রুতি দেয় প্রতিষ্ঠানটি। প্রথম বর্ষে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত তিনটি আবেদনমাধ্যমের যেকোনো একটির মাধ্যমে আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারেন।
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সীমিত পরিমাণ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। যেসব শিক্ষার্থীর আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন, তাদের ভর্তির আবেদনের সময়ই বিষয়টি উল্লেখ করতে হয়। ভর্তি হওয়ার পর পারিবারিক আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে সহায়তা প্রদান করা হয়।
কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়
কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তিপ্রক্রিয়ায় আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে ‘নিড অ্যাওয়ার’ নীতি অনুসরণ করা হয়। অর্থাৎ আবেদনকারীর আর্থিক প্রয়োজনও মূল্যায়নের অংশ হতে পারে। বর্তমানে গড় আর্থিক সহায়তার পরিমাণ ৭৯,৩৭৫ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯৬ লাখ টাকার সমান।
উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যেতে হলে শিক্ষার্থীদের অবশ্যই আগে থেকেই আর্থিক সহায়তা বা বৃত্তির আবেদন শুরু করতে হবে। তাহলে বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেওয়ার সুযোগ বাড়বে।