Saturday, July 11, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

উচ্চশিক্ষা

উচ্চশিক্ষায় কেন সেরা অস্ট্রেলিয়া? জেনে নিন আবেদন থেকে স্টুডেন্ট ভিসার সব তথ্য

অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার ব্যয় তুলনামূলক বেশি। এজন্য ভালো ফলাফল, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিকভাবে প্রস্তুত থাকলে স্কলারশিপ ও স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম

একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার মূল চালিকাশক্তি হলো যুগোপযোগী উচ্চশিক্ষা। বিশ শতকের শেষভাগ থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিশ্বমঞ্চে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে যে কয়েকটি দেশ নেতৃত্ব দিচ্ছে, তাদের মধ্যে অন্যতম দেশ অস্ট্রেলিয়া। বিশ্বের ১৩তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ অস্ট্রেলিয়া। এর ফলেই দেশটির নাগরিকরা উন্নত মানের অবকাঠামো, আধুনিকতা ও সর্বোচ্চ মানের স্বাস্থ্যসেবার মতো সুবিধাগুলো পেয়ে থাকে। সব মিলিয়ে পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার গঠনে ছাত্রছাত্রীদের জন্য অস্ট্রেলিয়া নিঃসন্দেহে একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য।

চলুন, অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার আবেদন পদ্ধতি, স্টুডেন্ট ভিসা, জীবনযাত্রার খরচ, ও স্কলারশিপ সংক্রান্ত যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক। 

কেন অস্ট্রেলিয়া উচ্চশিক্ষার অন্যতম সেরা গন্তব্য

বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় উচ্চশিক্ষার গন্তব্য অস্ট্রেলিয়া। উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা, গবেষণার সুযোগ, আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়, বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশ এবং পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ - সব মিলিয়ে দেশটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়।

২০২৬ সালেও অস্ট্রেলিয়ার একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে মেলবোর্ন, সিডনি, ব্রিসবেন, পার্থ ও অ্যাডিলেড শহরগুলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য জনপ্রিয়।

অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়

University of Melbourne, University of Sydney, University of New South Wales (UNSW), Australian National University (ANU), Monash University, University of Queensland, University of Western Australia, University of Adelaide, University of Technology Sydney (UTS), RMIT University

অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার জন্য সর্বাধিক চাহিদাসম্পন্ন বিষয়

অ্যাকাউন্টিং, অ্যাকচুয়ারিয়াল সায়েন্স, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইন্ফরমেশন টেকনোলজি, সাইকোলজি, ট্যুরিজম অ্যান্ড হস্পিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, আর্কিটেক্চার, ইঞ্জিনিয়ারিং, হেল্থ সায়েন্স অ্যান্ড নার্সিং, বিজনেস অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট। 

অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আবেদনের উপায়

বছর জুড়ে সাধারণত তিনটি মৌসুমে ভর্তির জন্য আবেদন গ্রহণ করে থাকে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। মৌসুমগুলো ফেব্রুয়ারি, জুলাই ও নভেম্বর ইন্টেক হিসেবে পরিচিত।

ফেব্রুয়ারি ইনটেক: সবচেয়ে বেশি সংখ্যক কোর্সে ভর্তির সুযোগ থাকে ফেব্রুয়ারি ইন্টেকে। ভর্তি কার্যক্রম চলে ফেব্রুয়ারি বা মার্চ থেকে শুরু করে মে মাসের শেষ বা জুনের শুরু পর্যন্ত। আবেদন গ্রহণ করা হয় আগের বছরের অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাসে। ইন্টার্নশিপ বা কর্মসংস্থান পাওয়ার ক্ষেত্রে এই মৌসুমটিই সর্বাধিক উপযুক্ত।

জুলাই ইনটেক: জুলাই ইন্টেকের আবেদন নেওয়া হয় এপ্রিল থেকে মে পর্যন্ত। অতঃপর ভর্তি শুরু হয় জুলাইয়ের শেষ বা আগস্টের শুরুর দিকে। তারপর নভেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে ছাত্রছাত্রী ভর্তি।

নভেম্বর ইনটেক: সর্বশেষ নভেম্বর ইন্টেকে আবেদনের সময় সেপ্টেম্বর মাস। ভর্তি প্রক্রিয়া চলমান থাকে নভেম্বরের শেষ থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত।

এই আবেদনের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার জন্য প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে নিজস্ব অনলাইন পোর্টাল। মৌসুমগুলোকে কেন্দ্র করে এই ওয়েবসাইটগুলোতে ভর্তির যাবতীয় শর্ত, কোর্সের পর্যাপ্ততা ও আবেদনের সময়সীমা হালনাগাদ করা হয়। তাই অনলাইন আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ অন্যান্য বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জানতে প্লাটফর্মগুলোতে চোখ রাখা উচিত।

  • ভর্তির আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
  • অনলাইন আবেদনপত্র
  • মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, সমমান, স্নাতকোত্তর ডিগ্রির সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্ট
  • ইংরেজি ভাষা দক্ষতার প্রমাণপত্র: বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্সভেদে যোগ্যতার মান ভিন্ন হতে পারে। সাধারণভাবে IELTS Academic-এ ন্যূনতম ৬.০-৬.৫, TOEFL iBT-এ ৬৪-৭৯, PTE Academic-এ ৫০-৫৮ অথবা Cambridge English পরীক্ষায় সমমানের স্কোর গ্রহণযোগ্য।
  • জীবনবৃত্তান্ত বা পোর্টফোলিও (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
  • স্টেটমেন্ট অব পারপাস বা পার্সোনাল স্টেটমেন্ট
  • লেটার অব রিকমেন্ডেশন (বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রোগ্রামভেদে এক বা একাধিক)
  • রিসার্চ প্রোপোজাল (পিএইচডি বা গবেষণাভিত্তিক প্রোগ্রামের জন্য)
  • পেশাগত অভিজ্ঞতার সনদ (বিশেষ করে এমবিএ বা অভিজ্ঞতা-নির্ভর প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে)
  • বৈধ পাসপোর্ট
  • সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের ছবি
  • আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ: সাধারণত প্রথম বছরের টিউশন ফি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অন্যান্য শিক্ষা-সংক্রান্ত ব্যয় বহনের সক্ষমতার প্রমাণ দেখাতে হয়।
  • ওভারসিজ স্টুডেন্ট হেলথ কভার (OSHC): অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এটি বাধ্যতামূলক।
  • আবেদন ফি: বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে সাধারণত AUD ৫০-১৫০ বা তার বেশি হতে পারে।

এর বাইরেও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নথি চাওয়া হতে পারে। কোনো কাগজ বাংলায় হলে তা অবশ্যই ইংরেজিতে অনুবাদ করে মূল কপিসহ অনুদিত কপি স্ক্যান করতে হবে। এখানে অনুবাদককে অবশ্যই জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত হতে হবে।

স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন পদ্ধতি

স্নাতক বা স্নাতকোত্তরের মতো দীর্ঘমেয়াদী কোর্সগুলোতে অধ্যয়নের অনুমতি দেয় অস্ট্রেলিয়ার সাবক্লাস-৫০০ স্টুডেন্ট ভিসা। এখানে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দসই বিষয়ে পড়াশোনা করতে পারে। 

এই ভিসার আবেদনের জন্য অফলাইন ও অনলাইন দুই মাধ্যমেই রয়েছে। তবে সবচেয়ে নিরবচ্ছিন্ন উপায় হচ্ছে অনলাইন আবেদন। এই মাধ্যমে মূলত পাসপোর্টে কোনো সিল দেওয়া হয় না। ভিসাকে পাসপোর্টের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয় ডিজিটালভাবে।

আবেদনের পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন করার জন্য দুটো প্ল্যাটফর্ম আছে।

এগুলোর যে কোনো একটিতে অ্যাকাউন্ট খোলার মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করা যায়। তবে বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের জন্য অবশ্যই ভিএফএস সাইটের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হয়। উভয় ক্ষেত্রেই আবেদনের জরুরি কাগজপত্র আপলোডসহ আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানা যায়।

ভিসা আবেদনের প্রধান ধাপগুলো হলো-

  • অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র বিভাগের ImmiAccount-এ অ্যাকাউন্ট খুলে অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ করা।
  • প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করা।
  • নির্ধারিত ভিসা আবেদন ফি পরিশোধ করা।
  • প্রয়োজনে স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা।
  • বায়োমেট্রিক তথ্য (আঙুলের ছাপ ও ছবি) দেওয়ার জন্য VFS Global-এর মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে নির্ধারিত ভিসা আবেদন কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়া।
  • আবেদন জমা দেওয়ার পর ImmiAccount-এর মাধ্যমে আবেদনের অগ্রগতি ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পর্যবেক্ষণ করা।

ভিসার আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র- 

  • বৈধ পাসপোর্ট এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র বা ড্রাইভিং লাইসেন্সের অনুলিপি।
  • Confirmation of Enrolment (CoE): অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ইস্যুকৃত CoE, যা স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনের জন্য বাধ্যতামূলক।
  • ওভারসিজ স্টুডেন্ট হেলথ কভার (OSHC): ভিসার পুরো মেয়াদের জন্য বৈধ স্বাস্থ্য বীমার প্রমাণপত্র।
  • একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ও সনদপত্র এবং প্রয়োজন হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা নিয়োগকর্তার রেফারেন্স/রিকমেন্ডেশন লেটার।
  • ইংরেজি ভাষা দক্ষতার প্রমাণপত্র (যদি প্রযোজ্য হয়)।
  • পিএইচডি বা গবেষণাভিত্তিক প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে রিসার্চ প্রোপোজাল বা থিসিসের সারসংক্ষেপ এবং জীবনবৃত্তান্ত।
  • আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ: টিউশন ফি, জীবনযাত্রার ব্যয়, ভ্রমণ ব্যয় এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের ব্যয় বহনের সক্ষমতার প্রমাণ। এ জন্য ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ব্যাংক সঞ্চয়পত্র, শিক্ষা ঋণের নথি, স্পনসরের আয়ের প্রমাণ বা অন্যান্য গ্রহণযোগ্য আর্থিক নথি জমা দিতে হতে পারে।
  • নিজস্ব অর্থায়নের ক্ষেত্রে চাকরির সনদ, বেতন স্লিপ, আয়কর রিটার্ন বা আয়ের অন্যান্য প্রমাণপত্র।
  • শিক্ষা ঋণ গ্রহণ করা হলে ঋণ অনুমোদনপত্র ও সংশ্লিষ্ট চুক্তির কপি।
  • স্কলারশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে স্কলারশিপ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল অনুমোদনপত্র বা অর্থায়নের প্রমাণপত্র।
  • সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের ছবি (প্রয়োজনে)।
  • স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও বায়োমেট্রিকস সম্পন্ন করার প্রমাণ, যদি অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র বিভাগ তা চায়।

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র বিভাগ আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি, কোর্স ও দেশের ভিত্তিতে অতিরিক্ত কাগজপত্র চাইতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সর্বশেষ ভিসা নির্দেশিকা যাচাই করা উচিত।

এছাড়া অন্য কেউ আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকলে যে তথ্যগুলো দিতে হবে। তা হলো - অর্থ সহায়তা প্রদানকারীর সঙ্গে শিক্ষার্থীর সম্পর্কের প্রমাণ, তাদের পরিচয় নথি, আর্থিক সহায়তা প্রদানের প্রমাণপত্র, স্বাস্থ্য শংসাপত্র, অস্ট্রেলিয়ান ভ্যালু স্টেটমেন্টে সই বা সম্মতি প্রদান। প্রত্যেকটি নথির মূল এবং অনুলিপি উভয় কপির রঙিন ও স্পষ্ট স্ক্যান করতে হবে যেন তা সহজে পাঠযোগ্য হয়। কোনো নথি একের অধিক পৃষ্ঠার হলে সবগুলোকে ১টি ফাইলে নিতে হবে।

বায়োমেট্রিক নিবন্ধন

ভিসা কেন্দ্রে যাওয়ার আগে অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য এই লিংকে যেয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। যারা এর আগে ভিসা আবেদনের জন্য এই সাইট ব্যবহার করেছেন তাদের আর নতুন করে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে না। শুধু সাক্ষাৎকারের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং দিলেই হবে। ই-মেইলের মাধ্যমে বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের জন্য নির্দিষ্ট দিনক্ষণ জানিয়ে একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার দেওয়া হবে। এই লেটারটি প্রিন্ট করে সেই নির্দিষ্ট সময়ানুযায়ী পাসপোর্ট ও ভিসা আবেদনের যাবতীয় নথি সহকারে কন্স্যুলেটর অফিসে যেতে হবে। এগুলোর কোনোটিই অফিসে রেখে দেওয়া হবে না। কেবল প্রার্থীকে তাৎক্ষণিক যাচাইয়ের জন্য দরকার হবে।

ঢাকা ভিএফএস ঠিকানা: ডেল্টা লাইফ টাওয়ার (৪র্থ তলা), প্লট নম্বর ৩৭, রোড নম্বর ৪৫ ও ৯০, গুলশান উত্তর বাণিজ্যিক এলাকা, গুলশান সার্কেল ২, ঢাকা-১২১২।

চট্রগ্রামের ভিএফএস ঠিকানা: ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার চট্টগ্রাম, (৫ম তলা), ১০২/১০৩ আগ্রাবাদ সিএ, কমার্স কলেজ রোড, চট্টগ্রাম-৪১০০।

সিলেট ভিএফএস ঠিকানা: মার্চেন্ট টাওয়ার, ২য় তলা, পূর্ব মীরাবাজার, সিলেট-৩১০০।

ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সময় এবং আনুষঙ্গিক খরচ

আবেদন জমা দেওয়ার পর থেকে নিয়মিত ইমি অ্যাকাউন্ট বা ভিএফএস অ্যাকাউন্ট চেক করা জরুরি। কেননা যদি কোনো অতিরিক্ত তথ্য বা নথির প্রয়োজন হয় তবে এই অ্যাকাউন্টে বা ই-মেইলের মাধ্যমে জানানো হবে। এ সময় প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আরও কিছু কাগজপত্র প্রদানের প্রয়োজন হতে পারে। এগুলোর মধ্যে সর্বাপেক্ষা জরুরি হচ্ছে পুলিশ সার্টিফিকেট।

এছাড়া চরিত্র মূল্যায়নের জন্য ব্যক্তিগত বিবৃতি স্বরূপ দুটি ফর্ম পূরণ করতে বলা হতে পারে - 

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষার শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন ফি ২ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার থেকে বাড়িয়ে ২,৫০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার করা হয়েছে। তবে আসিয়ান সদস্য দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য এই ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২,০৫০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার।

ইংরেজি ভাষা শিক্ষা (ELICOS) কোর্সের শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদন ফি ২,০৫০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার করা হয়েছে। অন্যদিকে টেম্পোরারি গ্র্যাজুয়েট ভিসা সাবক্লাস ৪৮৫-এর আবেদন ফি ৪,৬০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার থেকে বাড়িয়ে ৫,৭৫০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার করা হয়েছে। 

অস্ট্রেলিয়াতে পড়াশোনা ও জীবনযাত্রার সম্ভাব্য খরচ

অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের তুলনামূলক ব্যয়বহুল উচ্চশিক্ষার গন্তব্যগুলোর একটি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়, কোর্স, শহর এবং জীবনযাত্রার ধরন অনুযায়ী খরচ কম-বেশি হতে পারে।সাধারণভাবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্নাতক পর্যায়ে বার্ষিক টিউশন ফি AUD ২০,০০০-৫৫,০০০, স্নাতকোত্তর পর্যায়ে AUD ২২,০০০-৬০,০০০ এবং গবেষণাভিত্তিক (PhD) প্রোগ্রামে AUD ২০,০০০-৫০,০০০ পর্যন্ত হতে পারে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান, দন্তচিকিৎসা, ভেটেরিনারি সায়েন্স ও এমবিএর মতো কিছু পেশাভিত্তিক প্রোগ্রামে টিউশন ফি এর চেয়েও বেশি হতে পারে।

টিউশন ফির পাশাপাশি আবাসন, খাবার, যাতায়াত, স্বাস্থ্য বীমা, বইপত্র এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত খরচ মিলিয়ে একজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর বছরে গড়ে AUD ২৫,০০০-৩৫,০০০ পর্যন্ত অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে।

জীবনযাত্রার সম্ভাব্য খরচ

টিউশন ফির পাশাপাশি আবাসন, খাবার, যাতায়াত, স্বাস্থ্য বীমা এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত খরচের জন্যও বাজেট রাখতে হয়। শহরভেদে ব্যয়ের পরিমাণ ভিন্ন হলেও একজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর মাসিক খরচ সাধারণত নিম্নরূপ হতে পারে - 

আবাসন: AUD ৮০০-২,০০০

খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য: AUD ৪০০-৮০০

যাতায়াত: AUD ১০০-২৫০

মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট: AUD ৫০-১০০

বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য ইউটিলিটি: AUD ১৫০-৩০০ (অনেক শিক্ষার্থী শেয়ারড বাসায় থাকলে এ খরচ ভাড়ার মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকে)

বইপত্র ও শিক্ষাসামগ্রী: AUD ৫০-১৫০

ব্যক্তিগত ও অন্যান্য খরচ: AUD ২০০-৫০০

সব মিলিয়ে একজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর মাসিক জীবনযাত্রার ব্যয় সাধারণত AUD ১,৮০০-৪,১০০ হতে পারে। তবে সিডনি ও মেলবোর্নে এ খরচ তুলনামূলক বেশি, আর অ্যাডিলেড, পার্থ, হোবার্ট, ক্যানবেরা ও ব্রিসবেনে কিছুটা কম হতে পারে।

অস্ট্রেলিয়াতে স্কলারশিপের সুবিধা

উল্লেখযোগ্য কয়েকটি স্কলারশিপ হলো -

Melbourne International Undergraduate Scholarship: The University of Melbourne-এর স্নাতক পর্যায়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা প্রথম বছরের টিউশন ফিতে উল্লেখযোগ্য ছাড় বা সম্পূর্ণ বৃত্তি পেতে পারেন।

Monash International Leadership Scholarship: Monash University-এর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের জন্য। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা কোর্সের টিউশন ফির সম্পূর্ণ বা উল্লেখযোগ্য অংশের আর্থিক সহায়তা পান।

UTS Vice-Chancellor's International Scholarship: University of Technology Sydney-এর মেধাবী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য। এই স্কলারশিপের আওতায় টিউশন ফিতে আংশিক বা পূর্ণ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

Global Academic Excellence Scholarship: বিভিন্ন অস্ট্রেলিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে অসাধারণ একাডেমিক ফলাফলধারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের টিউশন ফিতে আংশিক বা উল্লেখযোগ্য ছাড় দেওয়া হয়।

এছাড়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আরও কয়েকটি জনপ্রিয় বৃত্তি হলো Australia Awards Scholarships, Destination Australia Scholarship, University of Sydney International Scholarship এবং Research Training Program (RTP) Scholarship। 

পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন চাকরির সুযোগ

স্টুডেন্ট ভিসা (সাবক্লাস ৫০০)-এর অন্যতম সুবিধা হলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন কাজ করতে পারেন। বর্তমানে সেমিস্টার চলাকালে প্রতি দুই সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা এবং নির্ধারিত সেমিস্টার বিরতিতে  পূর্ণসময় কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ায় বৈধভাবে কাজ করতে হলে শিক্ষার্থীদের Tax File Number (TFN) সংগ্রহ করতে হয়। পাশাপাশি আয়ের পরিমাণ অনুযায়ী কর পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে। কাজের ধরন, অবস্থান, অভিজ্ঞতা, নিয়োগকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতের ওপর ভিত্তি করে মজুরি ভিন্ন হয়। সাধারণভাবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা ঘণ্টাপ্রতি AUD ২৫-৪০ বা তার বেশি আয় করতে পারেন।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য জনপ্রিয় কিছু খণ্ডকালীন চাকরি হলো -

ক্যাম্পাসের ভেতরে:  পিয়ার টিউটর, গবেষণা সহকারী, শিক্ষকতা সহকারী, লাইব্রেরি সহকারী, স্টুডেন্ট অ্যাম্বাসেডর, প্রশাসনিক সহকারী

ক্যাম্পাসের বাইরে: ক্যাফে বা রেস্তোরাঁর কর্মী, খুচরা বিক্রয় সহকারী, সুপারমার্কেট কর্মী, ডেলিভারি ড্রাইভার বা রাইডার, গুদাম কর্মী, নির্মাণ শ্রমিক (যোগ্যতা ও নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ সাপেক্ষে), পেট সিটার বা বেবিসিটার, অনুবাদক বা কাস্টমার সার্ভিস প্রতিনিধি। 

সর্বোচ্চ মানের শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করায় সঙ্গত কারণেই অস্ট্রেলিয়ার উচ্চশিক্ষা যথেষ্ট ব্যয়বহুল। তাই এই অসামান্য সুযোগ লাভের জন্য স্কলারশিপ অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। এর প্রথম শর্ত হিসেবে স্নাতকের জন্য উচ্চ মাধ্যমিকে এবং স্নাতকোত্তরের জন্য স্নাতকে দুর্দান্ত ফলাফল অর্জন করা জরুরি। পাশাপাশি ইংরেজি ভাষা দক্ষতার পরীক্ষাতেও গড়পড়তার থেকে বেশি স্কোর থাকা উচিত। এই বিষয়গুলো নিশ্চিত করার পর অফার লেটার চলে আসলে স্টুডেন্ট ভিসাপ্রাপ্তির কাজটা অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। বাকি থাকে শুধু সতর্কতার সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রতিটি কাগজপত্র জমা দেওয়া। বিশেষ করে আর্থিক ও আইনি নথিপত্রের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে দ্রুত সময়ে ভিসা পাওয়া সম্ভব হবে।

   

About

Popular Links

x