বারবার অ্যালার্মের স্নুজ চাপেন, এতে কি মস্তিষ্কের ওপর চাপ পড়ে?

সকালে ঘুম থেকে ওঠাটা বেশ কষ্টসাধ্য। অনেকেই আছেন, অ্যালার্ম দিয়ে রাখেন বটে কিন্তু বারবার অ্যালার্ম বন্ধ করে আরেকটু ঘুমান। বেশিরভাগ মানুষ একে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে মনে করলেও সাম্প্রতিক সময়ে বেশকিছু গবেষণা প্রমাণ করছে, এই স্নুজ ঘুমের বারোটা বাজায়, বিষয়টা এমন নয়, বরং এটি শরীর ও মস্তিষ্ককে জাগ্রত অবস্থায় যেতে সাহায্য করে।

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নায়ুবিজ্ঞানী ডা. ক্যাথি গোল্ডস্টেইনের নেতৃত্বে গবেষণায় উঠে এসেছে এ তথ্য। ২১ হাজার ব্যবহারকারীর তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা এ উপসংহারে পৌঁছেছেন।

তাহলে সমস্যা কোথায়?

প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সাধারণত ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের ধারাবাহিকতা না থাকলেই যত বিপদ।  যদি কেউ নিয়মিত দেরিতে ঘুমাতে যান এবং সকালে ঘুমের ঘাটতি পূরণ করতে বারবার স্নুজ চাপেন, তাহলে সেটি দীর্ঘমেয়াদি ঘুমের অভাবের লক্ষণ হতে পারে। 

নিউইয়র্কের অ্যালবার্ট আইনস্টাইন কলেজ অব মেডিসিনের সহযোগী অধ্যাপক শেলবি হ্যারিসের মতে, অনেকের কাছে স্নুজ বাটন চাপ দেওয়া এখন অভ্যাস। কারণ একবার অ্যালার্মে ঘুম থেকে ওঠার ভরসা সবাই করতে পারেন না। যাদের স্লিপ অ্যাপনিয়া রয়েছে, ঘুমের মান খারাপ, বা অতিরিক্ত সেডেটিভ ওষুধ ব্যবহার করেন, তারা প্রায়ই সকালে উঠতে কষ্ট পান এবং স্নুজের ওপর নির্ভর করেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে সবচেয়ে জরুরি হলো পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম।  প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং একই সময়ে জাগার অভ্যাস শরীরের জৈব ঘড়িকে স্থিতিশীল রাখে। ঘুমের ঘাটতি দীর্ঘ মেয়াদে স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ, আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং এমনকি হৃদ্‌-স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই যদি প্রতিদিন অ্যালার্মের পর কয়েকবার স্নুজ চাপতে হয়, তাহলে হয়তো আগের রাতে পর্যাপ্ত ঘুম হয়নি।