দারুণ সুস্বাদু রুমালি রুটির যে ইতিহাস শুনলে চমকে যাবেন

সব তরকারিতেই দিব্যি মানিয়ে যায়, নরম, পাতলা ফিনফিনে রুমালি রুটি। স্বাদে দারুণ এই রুটির ইতিহাস বেশ চমকপ্রদ।
জানা যায়, মুঘল বাদশা হাত মোছার জন্যই নাকি উদ্ভাবন হয় মুখরোচক খাবার।

কীভাবে কোথা থেকে এলো, এই সুস্বাদু খাবার চলুন জেনে নেই তার আদ্যোপান্ত।

তেল-ঘি-মশলায় সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পর অভিজাতদের হাত পরিষ্কার করার জন্য পাতলা এই রুটি কাজে লাগানো হতো। ফলে ভোজ শেষে রুটিটির আর কোনো প্রয়োজন থাকত না।

রুমালি রুটির নাম নিয়েও রয়েছে কৌতূহল। ‘রুমালি’ শব্দটির সঙ্গে ‘রুমাল’-এর সাদৃশ্য থেকেই ধারণা করা হয়, হাত মোছার কাজে ব্যবহারের সঙ্গে এর নামের সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে এটি যে নিশ্চিত ঐতিহাসিক তথ্য, এমনটা বলার সুযোগ নেই। বরং রুটিটির উৎপত্তি ও নামকরণ নিয়ে একাধিক মত রয়েছে।

কেউ কেউ এর শিকড় খুঁজে পান প্রাচীন ভারতীয় ‘মণ্ডক’-এর মধ্যে। আবার পঞ্জাবের কিছু এলাকায় এর বড় আকারের কারণে ভিন্ন নামেও পরিচিতি রয়েছে। অর্থাৎ, রুমালি রুটির ইতিহাস একক কোনো গল্পে আটকে নেই; সময়ের সঙ্গে এর নানা সংস্করণ ও ব্যাখ্যা তৈরি হয়েছে।

আর এই রুটি তৈরির কৌশলও কম আকর্ষণীয় নয়। ময়দার মণ্ডকে অত্যন্ত পাতলা করে টেনে নেওয়া হয়। এরপর উল্টো করে রাখা উত্তপ্ত তাওয়া বা কড়াইয়ের পেছনের অংশে সেটি দ্রুত সেঁকা হয়। ঠিকমতো তৈরি হলে রুটিটি হয় বড়, পাতলা ও আশ্চর্য রকম নরম।

সবচেয়ে মজার বিষয় হলো এর কথিত অতীত আর বর্তমানের অবস্থানের পার্থক্য। যে রুটিকে ঘিরে একসময় রাজদরবারে হাত পরিষ্কারের গল্প শোনা যায়, সেটিই এখন কাবাব ও নানা মাংসের পদের সঙ্গে রেস্তোরাঁর টেবিলে জায়গা করে নিয়েছে। খাবারের ইতিহাস যে কত বিচিত্র পথে বদলে যেতে পারে, রুমালি রুটি তার দারুণ একটি উদাহরণ।