বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর ২ কোটি ৩০ লাখ গর্ভপাত ঘটে বলে জানিয়েছে একটি ৩১ জন গবেষকের একটি আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ দল। অর্থাৎ বিশ্বের প্রতি সাতজন গর্ভবতী নারীর একজন গর্ভপাতের শিকার হন।
দ্য ল্যান্সেটে প্রকাশিত তিনটি গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ১১% নারী তার জীবদ্দশায় কমপক্ষে একবার ব্যর্থ গর্ভাবস্থা সহ্য করেছেন। তবে ধারণা করা হচ্ছে এই সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
প্রতি ৫০জন নারীর একজন অন্তত দু'বার গর্ভপাতের শিকার হয়েছে। যা মোট গর্ভপাতের ২%। অপরদিকে ১% নারীর তিন বা তিনের অধিকবার গর্ভপাত ঘটেছে।
গর্ভপাত সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা
অনেক নারীই বিশ্বাস করেন গর্ভপাত খুব কমই ঘটে। উদাহরণস্বরূপ, তারা মনে করেন ভারী জিনিসপত্র তুললে বা পূর্বে কখনও গর্ভনিরোধক ব্যবহারের কারণে গর্ভপাত ঘটে থাকে।
এমনকি গর্ভপাত রোধে কোনো চিকিৎসা নেই বলেও অনেকে মনে করেন। আর এই ভুল ধারণাগুলোই গর্ভপাতের জন্য দায়ী।
অজানা ট্রমা
২০২০ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত করা এক পর্যালোচনায় গর্ভপাতের জন্য কয়েকটি বিষয়কে দায়ী করা হয়। যার মধ্যে গর্ভবতী নারীর বয়স, পূর্বের গর্ভপাত এবং ৪০ বছরের বেশি বয়সী পিতাসহ কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করা হয়।
এছাড়া অতিরিক্ত কম বা বেশি ওজন, ধূমপান, মদ সেবন, মানসিক চাপ, রাতের বেলা কাজ করা এবং বায়ু দূষণ বা কীটনাশকও দায়ী।
আবার, দ্বিতীয় বা একাধিকবার গর্ভপাতের শিকার নারীদের শারীরিক অবস্থা এমনিই দুর্বল থাকে। ফলে পরবর্তীতে গর্ভপাতের সম্ভাবনাও আরও বেড়ে যায়। এছাড়া, পূর্বের গর্ভপাত মানসিকভাবেও আঘাত হানতে পারে। তাই শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি গর্ভবতী মায়ের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেয়াও একইভাবে প্রয়োজন।