Tuesday, July 21, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

হোটেল রুমে গোপন ক্যামেরা আছে কিনা ২ মিনিটেই পরীক্ষা করুন

সম্প্রতি দেশে গোপন ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিওর মাধ্যমে হয়রানির অনেক ঘটনা দেখা গেছে

আপডেট : ২১ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম

ছুটির দিনে অবকাশ যাপন কিংবা কেনাকাটা করতে গিয়ে শপিং মলের ট্রায়াল রুম বা হোটেলের রুমে পোশাক পরিবর্তনের সময় এক অজানা আতঙ্ক কাজ করে, ‘এখানে কোনো লুকানো ক্যামেরা নেই তো?’ মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের এক জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৫৮ শতাংশ মানুষ গোপন ক্যামেরা নিয়ে উদ্বেগে থাকেন এবং এদের মধ্যে ৩৪ শতাংশ মানুষ ভ্রমণের সময় ঘরে ক্যামেরা খোঁজার চেষ্টা করেন। সম্প্রতি দেশে গোপন ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিওর মাধ্যমে হয়রানির অনেক ঘটনা দেখা গেছে। তাই সুরক্ষার স্বার্থে সতর্ক থাকা ও ক্যামেরা শনাক্তের উপায় জানা অত্যন্ত জরুরি।

তবে বাস্তবে এসব উপায় কতটা কার্যকর? বিষয়টি যাচাই করতে প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি একটি পরীক্ষা চালায়। একটি সাধারণ বাসায় সূক্ষ্মভাবে ২৭টি গোপন ক্যামেরা বসিয়ে একটি দলকে সেগুলো খুঁজে বের করতে বলা হয়। অনুসন্ধানী দলটি কেবল খালি চোখে একটি ক্যামেরা শনাক্ত করতে পারে। পরবর্তীতে স্মার্টফোনের বিশেষ সফটওয়্যার, আধুনিক লেন্স ও লেজার প্রযুক্তির সাহায্যে আরও ১৬টি ক্যামেরা ধরা পড়ে। অর্থাৎ, সবকটি প্রচলিত মাধ্যম ব্যবহার করেও কিছু ক্যামেরা অলক্ষিত থেকে যায়।

ফলাফল কিছুটা উদ্বেগজনক হলেও সচেতনতা ও সঠিক সতর্কতাই পারে বিপদ থেকে রক্ষা করতে। গোপন ক্যামেরা শনাক্তে বিশেষজ্ঞ নির্দেশিত পাঁচটি কার্যকর উপায় নিচে তুলে ধরা হলো:

১. সন্দেহজনক বস্তু ও চারপাশ পরীক্ষা
অপরিচিত কক্ষে ঢুকেই চারপাশের পরিবেশ ভালো করে পর্যবেক্ষণ করুন। শৌচাগার, দেয়ালঘড়ি, কলমদানি, ফায়ার অ্যালার্ম, চার্জিং অ্যাডাপ্টার বা সিগন্যাল সকেট, দেয়ালে টানানো ছবি এবং বেডসাইড টেবিলের মতো জায়গাগুলো নিখুঁতভাবে পরখ করুন। কোনো বস্তু অস্বাভাবিক স্থানে রাখা থাকলে (যেমন—টিভি বা বিছানার দিকে মুখ করে রাখা অদ্ভুত কোনো শো-পিস) তা পরীক্ষা করে দেখুন। শপিং মলের ট্রায়াল রুমে ঢুকেও ঝুলন্ত হুক বা ওপর-নিচের ফাঁকফোকর পরখ করে নেওয়া উচিত।

২. টু-ওয়ে বা দুমুখো আয়নার পরীক্ষা
আয়নার পেছনের অংশে ক্যামেরা লুকানো রয়েছে কি না, তা সহজেই আঙুলের পরীক্ষায় বোঝা যায়। আয়নার কাচে আপনার আঙুলের ডগা স্পর্শ করুন। যদি আসল কাচ হয়, তবে আপনার আঙুল ও প্রতিচ্ছবির আঙুলের মাঝখানে কিছুটা ফাঁকা জায়গা দেখা যাবে। কিন্তু যদি প্রতিচ্ছবিটি সরাসরি আসল আঙুলকে স্পর্শ করে (মাঝে কোনো ফাঁকা জায়গা না থাকে), তবে বুঝতে হবে এটি টু-ওয়ে মিরর বা দুমুখো আয়না, যার পেছনে ক্যামেরা থাকতে পারে। এছাড়া দেয়ালে ফিক্সড করা আয়নাগুলোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

৩. আলো ও অন্ধকারের খেলা
ঘরের সব বাতি নিভিয়ে ঘরটি সম্পূর্ণ অন্ধকার করে ফেলুন। গোপন ক্যামেরায় সাধারণত সচল থাকার সংকেত হিসেবে ক্ষুদ্র এলইডি লাইট জ্বলে। অন্ধকারের মধ্যে চোখ বুলিয়ে দেখুন কোথাও লাল, সবুজ বা নীল রঙের কোনো বিন্দু জ্বলছে কি না।

অন্ধকার ঘরেই আরেকটি পরীক্ষা করা যায়, মুঠোফোনের টর্চলাইট জ্বেলে ঘরের সম্ভাব্য স্থানগুলোতে আলো ফেলুন। ক্যামেরার লেন্সে আলো পড়লে তার ভেতরের রিফ্লেকশন থেকে বিশেষ নীল বা বেগুনি আভা প্রতিফলিত হয়, যা সহজেই খালি চোখে ধরা পড়ে।

৪. ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক স্ক্যান
বর্তমানে অধিকাংশ আধুনিক আইপি গোপন ক্যামেরা চালু রাখার জন্য ওয়াইফাই সংযোগের ওপর নির্ভর করে। আপনি যে ঘরের ওয়াইফাই ব্যবহার করছেন, মোবাইলের নেটওয়ার্ক স্ক্যানিং সফটওয়্যার দিয়ে সেই নেটওয়ার্কে যুক্ত ডিভাইসগুলোর তালিকা দেখে নিতে পারেন। যদি সংযুক্ত ডিভাইসের তালিকায় অপরিচিত কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইসের নাম ভেসে ওঠে, তবে সেখানে ক্যামেরা থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

৫. স্মার্টফোনের সেন্সর ও অ্যাপস
স্মার্টফোনের ফ্রন্ট বা ব্যাক ক্যামেরা দিয়েও গোপন ক্যামেরার ইনফ্রারেড আলো শনাক্ত করা সম্ভব। অনেক সময় খালি চোখে অদৃশ্য ইনফ্রারেড আলো মোবাইলের ক্যামেরায় স্ক্রিনে বেগুনি আলো হিসেবে দেখা যায়। এছাড়া প্লে-স্টোর বা অ্যাপ-স্টোর থেকে বিশ্বস্ত অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন। এসব অ্যাপ ফোনের ম্যাগনেটিক সেন্সর এবং রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে আশপাশে কোনো ধাতব লেন্স বা ইলেকট্রনিক গোপন ক্যামেরা থাকলে অ্যালার্ম বাজিয়ে সংকেত দেয়।

   

About

Popular Links

x