পেট খারাপ, যা ডায়রিয়া নামেও পরিচিত, একটি সাধারণ হজমের সমস্যা। এটি জীবাণুর সংক্রমণ, খাদ্যে বিষক্রিয়া বা হঠাৎ খাদ্যের পরিবর্তনের মতো বিভিন্ন কারণে হতে পারে। দিনে তিনবারের বেশি পাতলা পায়খানা হলে তাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় “একিউট ওয়াটারি ডায়রিয়া” বলা হয়। এ পরিস্থিতিতে সঠিক চিকিৎসা না হলে পানিশূন্যতা ও শরীরে লবণের ভারসাম্যহীনতা হতে পারে।
ডায়রিয়ার চিকিৎসার জন্য ওভার-দ্য-কাউন্টার ওষুধ পাওয়া গেলেও বেশ কিছু ঘরোয়া প্রতিকার রয়েছে যা উপসর্গের উপশমের পাশাপাশি দ্রুত সুস্থতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারে।
• পাতলা পায়খানার জন্য প্রথম ঘরোয়া প্রতিকার হলো প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার গ্রহণ করা। ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন, বা ওরস্যালাইন প্রতি তিনবার পাতলা পায়খানা বা প্রতি তিনবার বমির পর একটি করে নির্দিষ্ট অনুপাতে বানিয়ে খেতে হবে। এক মুঠো চিনি, এক চিমটি লবণ এবং ৫০০ মিলিলিটার পানি দিয়ে বাড়িতেও এটি তৈরি করা যেতে পারে। শরীরের তরল এবং ইলেক্ট্রোলাইট (রক্তের লবণ) আবারও ভারসাম্য ফেরাতে সাহায্য করবে। আপনি দুর্বলতা থেকে বাঁচতে পারবেন। ক্যাফেইন এবং অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় এড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি শরীরকে আরও ডিহাইড্রেট বা পানিশূন্য করতে পারে।
• পাতলা পায়খানার জন্য আরেকটি কার্যকর ঘরোয়া প্রতিকার হচ্ছে BRAT ডায়েট, যা হলো কলা (Banana), চাল (Rice), আপেল সস (Apple Sauce) এবং টোস্ট (Toast)। এই খাবারগুলো হজম করা সহজ এবং মলকে শক্ত করতে সাহায্য করতে পারে। ফাইবার বা চর্বিযুক্ত খাবার এড়ানো গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এগুলো ডায়রিয়ার মাত্রা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
• খামির আর দইয়ের মতো গাঁজন প্রক্রিয়ায় তৈরি খাবারে প্রোবায়োটিকস, যা “গুড ব্যাকটেরিয়া” পাওয়া যায়। এগুলো ডায়রিয়ার তীব্রতা এবং সময়কাল কমাতে সাহায্য করতে পারে। প্রোবায়োটিক পাচনতন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য পুনরুদ্ধার করতে এবং নিয়মিত মলত্যাগে সহায়তা করতে পারে।
• এই প্রতিকারগুলো ছাড়াও, জীবাণুর সংক্রমণের বিস্তার রোধের জন্য ভালো। এর মধ্যে সাবান এবং পানি দিয়ে ঘন ঘন হাত ধোয়া উচিত। বিশেষ করে বাথরুম ব্যবহার করার পরে এবং বাড়ির অন্যদের কাছাকাছি না যাওয়াই উচিত।
• অবশ্যই রেজিস্টার্ড এমবিবিএস ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া মুড়ির মত এন্টিবায়োটিক খাওয়া উচিৎ নয়। কারণ আপনার নিজের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পেটের ভেতরের সমস্যাটিকে পরাস্ত করতে নিজেই সক্ষম হবে।
ঘরোয়া প্রতিকারে উপশম না হলে অথবা ডায়রিয়ার সঙ্গে জ্বর বা পেটে ব্যথার মতো অন্যান্য উপসর্গ থাকলে সঠিক মূল্যায়ন এবং চিকিৎসার জন্য একজন বিএমডিসি রেজিস্টার্ড এমবিবিএস ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
ডা. মুহম্মদ মুহিদুল ইসলাম
এমবিবিএস, এপিএইচ (কোর্স);
এক্স-সায়েন্টিফিক অফিসার, বাংলাদেশ ডায়াবেটিক এসোসিয়েশন কোভিড-১৯ ল্যাব;
ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান, ডায়াগনস্টিক পয়েন্ট এন্ড রিসার্চ ল্যাবরেটরি