দক্ষিণ ভারতের পাঁচটি জনপ্রিয় হাতে বোনা শাড়ি

শাড়িপ্রেমীরা কাছে ধরনের বাছবিচার খুব একটা নেই। প্রায় সব ধরনের শাড়িই পরেন তারা। আজকাল বাংলাদেশে দক্ষিণ ভারতীয় শাড়ির জনপ্রিয়তা চোখে পড়ার মতো।

এই তালিকায় রয়েছে কাঞ্জিভরম-কাসাভু থেকে শুরু করে আরও কিছু শাড়ি। এমনই পাঁচটি দক্ষিণ ভারতীয় শাড়ি নিয়েই এই আয়োজন-

মাইসোর সিল্ক

একসময় মহীশূর সিল্ক নামে জনপ্রিয় ছিল এই শাড়ি। দক্ষিণ ভারতের এই শাড়িতে স্বর্ণ ও রূপার জরির কারুকার্য করা হতো আগে। বিখ্যাত শাসক টিপু সুলতানের সময় থেকেই এই শাড়ির সমৃদ্ধি পুরো ভারতে ছড়িয়ে পড়েছিল বলে শোনা যায়।

মাইসোর সিল্ক/সংগৃহীত

১৭৯০ সালের দিকে সিল্ক ঘরানার এই শাড়ির উৎপত্তি কর্নাটকে। ভারতের বাজারে ৪-৫ হাজার রুপি থেকে এই হ্যান্ডলুম সিল্ক শাড়ির দাম শুরু হয়।

পোচামপল্লি শাড়ি

তেলাঙ্গানার প্রসিদ্ধ হ্যান্ডলুম শাড়ি। পোচামপল্লি এলাকায় বোনা হয় বলেই শাড়িগুলোর এই নামকরণ। ১৮ শতকে এই শাড়ির উৎপত্তি। তবে অনেকে ইতিহাসবিদের মতে, ইন্দোনেশিয়া, চীন এবং মিশরে এ ধরনের বুনন শিল্পের নিদর্শন মেলে প্রথম।

পোচামপাল্লি শাড়ি/সংগৃহীত ছবি

বিশেষ বুননশৈলী, উজ্জ্বল রং এবং এর ঐতিহ্যের জন্যে পোচামপল্লি শাড়ির কদর রয়েছে। ২-৩ হাজার রুপিতে এমন শাড়ি পাওয়া যায়।

কাঞ্জিভরম শাড়ি

তামিলনাড়ুর কাঞ্চিপুরম অঞ্চলের তাঁতিরা এই শাড়ি বোনেন। কাঞ্জিভরম শাড়ি বুনতে ব্যবহৃত হয় উন্নতমানের সিল্ক। শাড়ির পাড় এবং আঁচলে এতটাই ভারি কারুকার্য করা হয় যে, এটি আলাদা করে প্রত্যেকের নজর কাড়ে।

কাঞ্জিভরম সিল্ক/পিন্টারেস্ট

বিশেষ করে বিয়েতে এই শাড়ির কদর আলাদা। ৩-৪ হাজার থেকে শুরু করে ৩০-৪০ হাজার রুপি পর্যন্ত দামে মেলে কাঞ্জিভরম শাড়ি। চাইলে লাখ টাকাও খরচ করতে পারবেন একেকটি কাঞ্জিভরম শাড়ির জন্য।

কাসাভু শাড়ি

একসময় সুতি কিংবা সিল্কের ফেব্রিকে স্বর্ণ ও রূপার তন্তু ব্যবহার করে বর্ডার তৈরি করা হতো কাসাভু শাড়িতে। এটিই ছিল কাসাভু শাড়ির প্রধান বৈশিষ্ট্য। অনেকেই মনে করেন, বৌদ্ধদের সময়কাল থেকে এই শাড়ির জনপ্রিয়তা বাড়ে। পরে কেরালার বাসিন্দারাও এই ধরনের শাড়ি পরতে শুরু করেন।

কাসাভু শাড়ি/সংগৃহীত

এই ধরনের শাড়ি কেরালার মেয়েরা পরেন। খুব অল্প দামেও কাসাভু শাড়ি পাওয়া যায় ভারতের বাজারে।

গাদোয়াল শাড়ি

হায়দ্রাবাদ থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মেহবুবনগরের তাঁতিরা প্রধানত এই ধরনের শাড়ি বোনেন। তেলাঙ্গানার গোদোয়ালে এই শাড়ি বোনা হয়ে আসছে বলেই এই শাড়ি গাদওয়াল নামে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এটি তেলাঙ্গানার একটি জিআই পণ্য।

গাদোয়াল শাড়ি/সংগৃহীত

প্রায় ২০০ বছরের পুরনো এই শাড়িতে সুতি এবং সিল্ক দুই ধরনের ফেব্রিকই ব্যবহার করা হয়। মূলত শাড়ির জমিতে সিল্ক এবং আঁচল-পাড়ে সুতির ছোঁয়া থাকে। তাছাড়া বুননশৈলী এবং কারুকার্যের জন্য এর কদর বিশ্বজুড়ে।

ট্রেডিশনাল শাড়ি পছন্দ করলে ৩-৪ হাজার রুপি দিয়ে আপনি কিনতে পারেন একটি গাদোয়াল শাড়ি।