দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিষধর সাপ রাসেলস ভাইপার উপস্থিতি বেড়ে যাওয়ায় এ বিষয়ে সচেতন হতে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নির্দেশনা দিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।
সেবব নির্দেশনা দিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়-
কামড় এড়াতে করণীয়
- যেসব এলাকায় রাসেলস ভাইপার দেখা গেছে, সেসব এলাকায় চলাচলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করুন।
- লম্বা ঘাস, ঝোপঝাড়, কৃষি এলাকায় হাঁটার সময় সতর্ক থাকুন। গর্তের মধ্যে হাত-পা ঢোকাবেন না।
- সংশ্লিষ্ট এলাকায় কাজ করার সময় বুট ও লম্বা প্যান্ট পরুন।
- রাতে চলাচলের সময় অবশ্যই টর্চলাইট ব্যবহার করুন।
- বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার ও আবর্জনামুক্ত রাখুন।
- পতিত গাছ, জ্বালানির লাকড়ি ও খড় সরানোর সময় বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করুন।
- সাপ দেখলে তা ধরা বা মারার চেষ্টা করবেন না।
- প্রয়োজনে জাতীয় হেল্পলাইন ৩৩৩ নম্বরে কল করুন অথবা নিকটস্থ বন বিভাগের অফিসকে অবহিত করুন।
রাসেলস ভাইপার কামড়ালে করণীয়
- যেখানে কামড় খেয়েছেন, শরীরের সেই জায়গাটি নড়াচড়া করা যাবে না। পায়ে কামড়ালে বসে পড়তে হবে, হাঁটা যাবে না। হাতে কামড়ালে হাত নড়াচাড়া করা যাবে না। হাত-পায়ের গিরা নড়াচড়ায় মাংসপেশির সংকোচনের ফলে বিষ দ্রুত রক্তের মাধ্যমে শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
- আক্রান্ত স্থান সাবান দিয়ে আলতোভাবে ধুতে হবে অথবা ভেজা কাপড় দিয়ে আলতোভাবে মুছে ফেলতে হবে।
- শরীরে ঘড়ি, অলংকার, তাবিজ, তাগা থাকলে, সেটা খুলে ফেলুন।
- আক্রান্ত স্থান কাটবেন না, সুই ফোটাবেন না কিংবা কোনো রকম প্রলেপ বা অন্য কিছু প্রয়োগ করা উচিত নয়।
- সাপে কাটলে ওঝার কাছে গিয়ে অযথা সময় নষ্ট করবেন না।
- যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রে যান।
- আতঙ্কিত হবেন না। রাসেলস ভাইপারের বিষ প্রতিষেধক বা অ্যান্টিভেনম নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে পাওয়া যায়।
এছাড়াও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনামূলক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাসেলস ভাইপারের উপস্থিতি উদ্বেগজনক হলেও এটি মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে মানুষের সঙ্গে এই সাপের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা কম। এই সাপ সাধারণত নিচু ভূমির ঘাসবন, ঝোপ-জঙ্গল, উন্মুক্ত বন, কৃষি এলাকায় থাকে। মানুষের বসতি এড়িয়ে চলে। মেটে রঙের হওয়ায় এই সাপ মাটির সঙ্গে সহজে মিশে থাকতে পারে। মানুষ খেয়াল না করে কাছাকাছি গেলে, সাপটি বিপদ দেখে ভয়ে আক্রমণ করে।
এতে আরও বলা হয়, রাসেলস ভাইপার দক্ষ সাঁতারু সাপ। তাই এটি নদীর স্রোত ও বন্যার পানিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়েছে। এজন্য সবাইকে সাবধানতা অবলম্বন করার জন্য বিবৃতিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।