গেল কয়েক দিনে দেশে সাপের একটি প্রজাতি নিয়ে আলোচনায় সয়লাব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। শুধু অন্তর্জালেই নয়, চায়ের দোকান কিংবা যে কোনো আড্ডা-আলোচনায় উঠে আসছে রাসেলস ভাইপার নামে বিষধর এক সাপের প্রসঙ্গ। সম্প্রতি বেশ কিছু জেলায় রাসেলস ভাইপার সাপ নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এই সাপ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন মানুষ। বিশেষ করে পদ্মা তীরবর্তী এলাকায় আতঙ্কটা বেশি। পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে রাসেলস ভাইপার সাপ মেরে ফেরার প্রচারণাও সেখানকার কেউ কেউ চালাচ্ছেন।
রাসেলস ভাইপার নামটি নিয়েও অনেকের মধ্যে আছে কৌতুহল। বিষধর রাসেলস ভাইপার স্থানীয়ভাবে চন্দ্রবোড়া ও উলুবোড়া নামেও পরিচিতি। সাপটি দেখতে অনেকটা অজগরের বাচ্চার মতো।
ব্রিটিশ শাসনামলে ভারতে কাজ করতে এসেছিলেন স্কটিস সার্জন প্যাট্রিক রাসেল। ১৭৯৬ সালে তিনি এই সাপ সম্পর্কে গবেষণা করেন। তার নাম অনুসারেই এই সাপের নামকরণ করা হয়। অর্থাৎ, প্যাট্রিক রাসেল থেকেই রাসেলস ভাইপার।
বাংলাদেশে ২০০২ সালে প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থাগুলোর আন্তর্জাতিক জোট আইইউসিএন রাসেলস ভাইপারকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে। সাপটি মূলত শুষ্ক অঞ্চলের; বিশেষ করে বরেন্দ্র এলাকার বাসিন্দা হলেও এখন উপকূলীয় এলাকার কয়েকটি জেলাসহ অন্তত ৩৫টি জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা।
আর প্রায়ই এসব এলাকা থেকে রাসেলস ভাইপারের কামড়ে মৃত্যুর খবর আসছে। ফলে সাপটি নিয়ে জনপরিসরে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি সেই পরিমাণ ভয় ও আতঙ্কও তৈরি হয়েছে।
যদিও সাপ গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ প্রজাতির সাপ কামড়ালে তারও চিকিৎসা আছে এবং সময়মত চিকিৎসা নিতে পারলে মৃত্যু ঝুঁকি কমে আসে।



ঢাকার আশেপাশে পৌঁছে গেছে বিষধর রাসেলস ভাইপার, জেনে রাখুন করণীয়
রাসেলস ভাইপার কামড় দিলেই কি রোগী মারা যায়?