Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

রাসেলস ভাইপার চেনার উপায়

বর্তমানে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা নদীর তীরবর্তী অঞ্চলগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে এই সাপের উৎপাত

আপডেট : ২২ জুন ২০২৪, ০২:৪০ পিএম

এক দশক আগেও বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি হিসেবে গণ্য হয়েছিল বিষধর সাপ রাসেলস ভাইপার। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশ ও ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কিছু দেশে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই সরিসৃপ। প্রথম দিকে বরেন্দ্র অঞ্চলে আনাগোনা থাকলেও বর্তমানে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা নদীর তীরবর্তী অঞ্চলগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে এই সাপের উৎপাত।

বরিশাল, পটুয়াখালী, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, শরীয়তপুর, চাঁদপুর এমনকি ঢাকার উপকণ্ঠের গ্রামগুলোর মানুষও এখন ব্যাপকভাবে আতঙ্কিত। এমন পরিস্থিতিতে বিপদমুক্ত থাকতে পূর্বসতর্কতা জরুরি। চলুন, রাসেলস ভাইপার চেনার কিছু উপায় জেনে নেওয়া যাক।

ভারতীয় উপমহাদেশে চন্দ্রবোড়া বা উলুবোরা নামে পরিচিত এই সাপ ৫.৫ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। ত্রিভুজাকার আকৃতির চ্যাপ্টা মাথা ঘাড় থেকে বেশ আলাদা। মুখের সামনের অংশটি গোলাকার, ভোঁতা ও ওপরের দিকে বাকানো।

নাকের ছিদ্র বড় এবং মাথার শীর্ষবিন্দু স্বতন্ত্রভাবে খণ্ডিত আবরণে আচ্ছাদিত। মাথা আকারে বেশ বড় এবং রঙ হলুদ বা সোনালি হলুদ। আর এর চারপাশে থাকে ১০ থেকে ১৫টি বৃত্তাকার আঁশের বেষ্টনী। দুই জোড়া চোয়ালের ঢালের মধ্যে সামনের জোড়াটি একটু বেশি প্রসারিত। মুখের ভেতর দুটি ম্যাক্সিলারি হাড়ের সঙ্গে এক জোড়া করে মোট ৬টি বিষদাঁত। তবে একদম সামনের জোড়া দাঁতগুলো বেশ প্রকাণ্ড এবং সক্রিয় থাকে। দেহের পেছনে ছোট লেজের দৈর্ঘ্য গোটা দেহের মাত্র ১৪%।

এদের শরীরের রঙের প্যাটার্নে রয়েছে গভীর হলুদ এবং বাদামি মাটির রং। শরীরের দৈর্ঘ্য বরাবর ৩ সারি গাঢ় বাদামি দাগ। এই দাগগুলোর প্রত্যেকটির চারপাশে রয়েছে একটি করে কালো বলয়। এর বাইরের সীমানা সাদা বা হলুদ হয়ে প্রান্তের দিকে গাঢ় হয়ে গেছে।

মাথায় রয়েছে এক জোড়া গাঢ় ছোপ, যার প্রত্যেকটি একটি করে গোলাপি বা বাদামি রঙের ‘‘ভি’’ বা ‘‘এক্স’’ আকৃতি হয়ে মাথার শীর্ষবিন্দুতে মিলেছে। চোখের পেছনে অন্ধকার স্তরটি সাদা বা গোলাপি প্রান্তরেখায় পরিবেষ্টিত। শরীরের সামনে ও পেছনে সর্বাঙ্গজুড়ে সাদা, হলুদ বা গোলাপি রঙের সঙ্গে কালো দাগের অনিয়মিত ও বিক্ষিপ্ত নকশা।

রাসেলস ভাইপারের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- এরা যে কোনো স্থানের সঙ্গে অবিকলভাবে মিশে যেতে পারে। কোনো শত্রুর কাছ থেকে হুমকি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এরা একটি ‘‘এস’’ আকৃতি গঠন করে।

শরীরের ওপরের এক-তৃতীয়াংশকে উত্থাপন করে উচ্চ শব্দে আক্রমণের ঘোষণা দিতে থাকে। এইভাবে শরীরের নির্দিষ্ট অংশকে ওপরে তুলে ধরাটা প্রতিটি সাপেরই আক্রমণের একটি সাধারণ ভঙ্গিমা। তবে অন্যান্য সাপের তুলনায় রাসেলস ভাইপার তার শরীরের বেশিরভাগ অংশ মাটি থেকে তুলতে পারে।

   

About

Popular Links

x