Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সাপে কামড়ালে যা করবেন, আর যা করবেন না

বাংলাদেশে প্রতিবছর সাপের কামড়ে ৬ হাজার মানুষ মারা যান

আপডেট : ২০ জুন ২০২৪, ০৯:৩৫ পিএম

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৯ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর অন্তত ৫ লাখ ৮০ হাজার মানুষ সাপের কামড়ের শিকার হন এবং এদের মধ্যে ছয় হাজার মানুষ মারা যান।

দেখা গেছে, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম ও বন্যার সময় অর্থাৎ মে, জুন এবং জুলাই এই তিন মাস সাপের দংশন এবং তার কারণে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ে।

সাপে কাটলেই মানুষের মৃত্যু হবে এমন একটি প্রচলিত ভুল ধারণা চালু রয়েছে। তবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক অনিরুদ্ধ ঘোষ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, বাংলাদেশে ৮০% সর্প দংশনের ক্ষেত্রে সাপ থাকে নির্বিষ। ফলে সাপে কাটলেই মৃত্যু হবে এমন ধারণা সঠিক নয়।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতিবছর অনেকে বিষধর সাপের কামড় খেয়ে মারা যান শুধুমাত্র সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পাওয়া বিশেষ করে হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম না থাকার কারণে।

চিকিৎসকরা বলঝেন, সাপ যদি দংশন করে তাহলে যত দ্রুত সম্ভব সাপে কামড়ানোর ওষুধ বা অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করতে হবে। তাহলে মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব।

বাংলাদেশের সাপের কামড়ে আহত রোগীদের চিকিৎসায় যে অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন ব্যবহার করা হয় সেটি সব ধরনের সাপে কাটা রোগীর জন্যই ব্যবহার করা হয়। এগুলো সরকার বিনামূল্যে সরবরাহ করে।

তবে, প্রতিবছর বন্যার সময় বিশেষ করে সাপে কাটার প্রচুর ঘটনা ঘটলেও এখনো অ্যান্টিভেনম কেবলমাত্র জেলা শহর, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সদর হাসপাতালে থাকে। প্রয়োজন এবং চাহিদা অনুযায়ী উপজেলা পর্যায়ে সরবারহ করা হয়।

সাপে কাটা রোগীদের ক্ষেত্রে কী করতে হবে, আর কী করা যাবে না সেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। চলুন, জেনে নেওয়া যাক সে সম্পর্কে-

যা করতে হবে

  • শান্ত থাকুন এবং অতিদ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন।
  • শরীরের যে স্থানে সাপ কামড়েছে সেটি যতটা কম সম্ভব নড়াচড়া করুন। নড়চড়া কম হলে শরীরে বিষ কম ছড়াবে।
  • ঘড়ি বা অলঙ্কার পরা থাকলে তা খুলে ফেলুন।
  • হাত বা পা ভাঙলে যেমন করে শক্ত কিছু দিয়ে কাপড় দিয়ে হলকা করে বাধা হয়, সেভাবে বাধুন। তবে খুব শক্ত করে বাধা যাবে না।
  • পরিহিত কাপড়ের গিট ঢিলা করে দিন, তবে খুলবেন না।

যা করা যাবে না

  • আতংকিত হওয়া যাবে না।
  • ওঝা বা ঝাড়ফুঁকের অপেক্ষা করে কালক্ষেপণ করবেন না।
  • কোনো মলম বা মালিশ লাগানো যাবে না।
  • চিকিৎসক দেখার আগ পর্যন্ত কোনো কিছু খাওয়া যাবে না।
  • কামড়ের স্থান থেকে চুষে বিষ বের করে আনার চেষ্টা করা যাবে না।
  • কামড়ের স্থান আরও কেটে বা সেখান থেকে রক্তক্ষরণ করে বিষ বের করে আনার চেষ্টা করবেন না।
  • বরফ, তাপ বা কোনও ধরনের রাসায়নিক কামড়ের স্থানে প্রয়োগ করবেন না।
  • আক্রান্ত ব্যক্তিকে একা ফেলে যাবেন না।
  • কামড়ের স্থানের গিঁটের কাছে শক্ত করে বাঁধা যাবে না। এর ফলে বিষ ছড়ানো বন্ধ হবে না এবং আক্রান্ত ব্যক্তি পঙ্গুও হতে পারেন।
  • বিষধর সাপ ধরা থেকেও বিরত থাকা উচিত। এমনকি মৃত সাপও সাবধানতার সঙ্গে ধরা উচিত। কারণ, সদ্যমৃত সাপের স্নায়ু মারা যাওয়ার কিছুক্ষণ পরও সতেজ থাকতে পারে এবং তা দংশন করতে পারে।
   

About

Popular Links

x