আমরা প্রতিনিয়ত কোনো না কোনো কারণে দুশ্চিন্তায় ভুগি। মাঝে মাঝে আমরা অজনা কিছু অসুখের ভয়ে ভীত হয়ে পড়ি। আর তার মাঝে অন্যতম একটি কারণ হলো, স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে। কিন্তু এ সচেতনতার মাত্রা যখন মাত্রাতিরিক্ত উদ্বিগ্নতা বাড়িয়ে তোলে তখন সে অবস্থাকে হাইপোকন্ড্রিয়া বলে।
এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি অসুখ যা ভয়, উদ্বেগ ও শঙ্কার কারণে দেহে বাসা বাঁধতে শুরু করে। মানসিক চাপ বা বয়সভেদে এটি উঠানামা করে। একে সহজ ভাষায় হেলথ অ্যাংজাইটিও বলা হয়।
ক্রমাগত একটি বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে করতে আমাদের মানসিক চাপ বৃদ্ধি পায়। অনেক সময় মনে হয় প্রেশার হাই হয়ে যাচ্ছে বা স্ট্রোক হবে বা শরীরের মাঝে ক্যান্সারের বীজ দানা বাঁধতে শুরু করেছে, ডায়বেটিসে আক্রান্ত হচ্ছেন। কিন্তু এর আগে আপনার এমন কোনো অসুখ ছিলো না। কিন্তু ক্রমাগত এমন ভাবার কারণে এ অসুখ ধীরে ধীরে দেহে বাসা বাধে। এ ধরণের মানসিক অবস্থায় হলো হাইপোকন্ড্রিয়ার বহিঃপ্রকাশ।
হাইপোকন্ড্রিয়ায় লক্ষণ
১. স্বাস্থ্য সম্পর্কে অধিক পরিমাণে দুশ্চিন্তা করা।
২. দেশে চলমান বিক্ষিপ্ত অবস্থার কারণে মানসিক চাপ নেওয়া।
৩. শরীরে ছোটখাটো কিছু শনাক্ত হলে তা নিয়ে অধিক উত্তেজিত হওয়া।
৪. সম্ভাব্য অসুস্থতা এবং লক্ষণগুলির পিছনে কারণগুলি অনুসন্ধান করতে নিয়মিত ইন্টারনেট সার্ফিং করা।
৫. আপনার স্বাস্থ্য এবং অসুস্থতা সংক্রামিত হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রায়শই আলোচনায় লিপ্ত হন।
৬. একটি গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি অনুভব করা যা মোটেও গুরুতর নয়।
হাইপোকন্ড্রিয়ার চিকিৎসা
চিকিত্সার উদ্দেশ্য হলো, আপনার স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে উদ্বেগ ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করা এবং দৈনন্দিন জীবনে স্বাভাবিকভাবে কাজ করার আপনার ক্ষমতা বাড়ানো। এক্ষেত্রে সাইকোথেরাপি উদ্বেগজনিত ব্যাধি বা হাইপোকন্ড্রিয়া থেকে মুক্তি দিতে বেশ উপকারী। তবে তীব্র উদ্বেগ উপশম করার জন্য চিকিৎসকরা ওষুধের সুপারিশ করে থাকেন। এর জন্য, উপলব্ধ বিকল্পগুলি এবং তাদের সম্পর্কিত ঝুঁকি এবং পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলি ওজন করার জন্য একজন ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করা গুরুত্বপূর্ণ৷ পাশাপাশি মনোচিকিৎসা মানসিক যন্ত্রণার কারণে সৃষ্ট শারীরিক সংবেদন থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য একটি কার্যকর চিকিৎসা হিসেবে প্রমাণিত।