কানে ইয়ারফোনে গুঁজে নাকি নিঃশব্দে হাঁটা, শরীরচর্চার জন্য কোনটি ভালো?

প্রাতর্ভ্রমণে বেরিয়ে অনেকেই কানে ইয়ারফোন লাগিয়ে রাখেন। কেউ গান, কেউবা পডকাস্ট শুনতে শুনতে হাঁটাহাঁটি করতে পছন্দ করেন। অনেকের মতে, হালকা মিউজিক চালিয়ে হাঁটাহাঁটি করলে ক্লান্তি কম লাগে। তবে সাম্প্রতিক কিছু গবেষণা বলছে, হাঁটার সময়ে কানে একটানা উচ্চৈস্বরে কোনো শব্দ শোনাই উচিত নয়। খোলামেলা জায়গায় হাঁটলে মন পুরোপুরি প্রকৃতি ও চারপাশের পরিবেশের দিকে দিতে হবে। তাহলেই মনোযোগ, একাগ্রতা বাড়বে পাশাপাশি হাঁটার সুফল পুরোটো পাওয়া যাবে।

বিষয়টি নিয়ে মুম্বাইয়ের পিডি হিন্দুজা হাসপাতালের চিকিৎসক শিনা সুদ ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকাকে বলেন, “শরীরের জন্য সবচেয়ে ভালো ‘সাইলেন্ট ওয়াকিং’।”

তার মতে, প্রাতর্ভ্রমণে বেরিয়ে অথবা বিকেল-সন্ধ্যার সময়ে হাঁটতে বেরিয়ে অনেকেই কানে হেডফোন বা ইয়ারফোন গুঁজে রাখেন। সেখানে উচ্চস্বরে গান চলে। অথবা ফোনে কথা বলতে বলতেও হাঁটেন অনেকে। এই অভ্যাস কিন্তু শরীরের জন্য ভালো নয়। ৯০ ডেসিবেলের ওপর শব্দ শুনলে শোনার ক্ষমতা কমে যেতে পারে। মিনিট ১৫ ইয়ারফোন ব্যবহার করলেই তার বড়সড় প্রভাব পড়বে মস্তিষ্কে।

তিনি আরও জানান, ইয়ারফোন ব্যবহারের সময় এক ধরনের তড়িৎ-চুম্বকীয় তরঙ্গ সৃষ্টি হয়, যার ফলে তা বেশিক্ষণ মাথায় গেলে মাথা যন্ত্রণা, মাথা ঘোরা, বমি ভাব দেখা দিতে পারে।

ইয়ারফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার মাইগ্রেনের সমস্যাও বাড়াতে পারে। অন্তঃকর্ণের মাধ্যমে শরীরের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রিত হয়। দীর্ঘক্ষণ সশব্দে ইয়ারফোন ব্যবহার করলে এই অংশের ক্ষতি হতে পারে। তখন সব সময়ই মাথা ঘুরতে থাকবে। যে কারণে হাঁটার সুফল পাওয়া যাবে না।

তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ, ১৫ থেকে ২০ মিনিটও যদি হাঁটেন, ওই সময়টুকুতে ফোন থেকে দূরে থাকুন। যতটা সম্ভব কথা না বলারই চেষ্টা করতে হবে।

নিঃশব্দে হাঁটার সুফল

মনঃসংযোগ বাড়ে। চিন্তাভাবনা অনেক উন্নত হয়। বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় মনোবিদ অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায় আনন্দবাজার পত্রিকাকে বলেন, “যত বেশি প্রকৃতির মাঝে থাকবেন ও প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখবেন, শব্দ শুনবেন, ততই মানসিক চাপ, উদ্বেগ কমবে। একটানা উচ্চস্বরে গান শোনার বদলে বৃষ্টির শব্দ, পাখির ডাক, গাছপালার শব্দ শুনলে মানসিক ক্লান্তি কেটে যাবে।”

মোবাইল ফোনের দুনিয়া কেড়ে নিচ্ছে মুখোমুখি আলাপ, আড্ডার অবসর। তবে শরীর ও মনের চাই “ডিজিটাল ডিটক্স”। দৈনন্দিন প্রয়োজনে ডিজিটাল ডিভাইসগুলো থেকে দূরে থাকার সুযোগ থাকে না। কিন্তু যে সময়টুকু হাঁটছেন, সেই সময়টাতে ডিভাইস থেকে দূরে থাকলেই মিলবে “ডিজিটাল ডিটক্স”, যা অনেক মানসিক ব্যাধি দূরে রাখতে সহায়ক।

দুশ্চিন্তা, নেতিবাচক চিন্তাভাবনা থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। অফিসের হোক বা সাংসারিক জীবনের কাজের চাপ, চিন্তাভাবনা থেকে যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়, তার থেকেও রেহাই পাওয়া যাবে।

চাপ কমলেই ভালো লাগার অনুভূতি সৃষ্টি হবে। রেহাই পাওয়া যাবে অনিদ্রা জনিত সমস্যা, অবসাদ থেকেও।