বিয়ের আগে কোল্ড ফিট কেন হয়?

“কোল্ড ফিট” বিষয়টি অনেকের কাছেই অজানা। তবে বাস্তব জীবনে নিজের অজান্তেই কোল্ড ফিটে ভুগেছেন অনেকে।

এই যেমন, অনেকের মনে বিয়ের আগে একদিকে যেমন উচ্ছ্বাস কাজ করছে, তেমনি কিছু উদ্বেগও কাজ করে। এই বিষয়টিকেই মনোবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় “কোল্ড ফিট” বা পা ঠান্ডা হয়ে আসা।

“কোল্ড ফিট” মূলত একটি টার্ম, যার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ সঙ্গীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হবার আগে অনিশ্চিয়তার অনুভূতিকে বোঝায়। মূলত প্রতীকী অর্থে এই টার্মটির ব্যবহার হয়ে থাকে।

মনোবিদদের মতে, কোল্ড ফিট তখনই হয়, যখন কোনো অজানা বিষয় নিয়ে ভয় বা উদ্বেগ কাজ করে।  “আমি পারবো কি-না”, “আমার সঙ্গে এমনটা হবে কি-না”; এমন নান চিন্তা থেকেই এই ভয়টা কাজ করে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক ক্লিনিক্যাল সাইকোলিজিস্ট জোসেলিন চার্নার্সের মতে, বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর মানুষ যে ভয়, সংশয় আর দুশ্চিন্তা কাজ করে তার একটি “আমব্রেলা টার্ম” হলো কোল্ড ফিট।

কোল্ড ফিট আক্রান্ত হলে সম্পর্কে দুইজন কতটা মানানসই হবে কিংবা সম্পর্কটির স্থায়িত্ব কতদিন হবে এমন সব বিষয় নিয়ে উদ্বেগ কাজ করতে পারে।

মতবিরোধ, জীবনের ভিন্ন লক্ষ্য বা ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আলাদা প্রত্যাশা নিয়ে উদ্বেগের মতো বিষয়গুলোও সিদ্ধান্তের ওপর অনিশ্চয়তার ছায়া ফেলতে পারে।

জার্নাল অব ফ্যামিলি সাইকোলজিতে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে  দাম্পত্য জীবনের সন্তুষ্টি কমতে থাকার সঙ্গে বিয়ের আগে থেকে থাকা সন্দেহের একটি সম্পর্ক রয়েছে।

গবেষকরা বলছেন, এই ধরনের সংশয় থাকা স্বাভাবিক হলেও এটি হয়তো সবসময় এড়িয়ে যাওয়ারও উপায় নেই।

কোল্ড ফিটের লক্ষণ

ব্যক্তির তীব্র সংশয়ের অনুভূতি সৃষ্টি হওয়া। যেমন; বিয়ে করবো কী করবো না।

যাকে পছন্দ করেছেন সে মানুষটা তার জন্যে ঠিক কি-না কিংবা বিয়ের জন্য সময়টা সঠিক কি-না, তা নিয়ে সংশয়।

এছাড়াও সারা জীবনের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হবার বিষয়টি নিয়েও এক ধরনের সংশয়ও কাজ করে।

কখনও কখনও বিয়ে ভাঙার মতো চিন্তাও মাথায় খেলা করে।

তবে সবার ক্ষেত্রে বিষয়গুলো যে খুব প্রকাশ্যে আসে, তেমনও না। অনেকের ক্ষেত্রে বিয়ের পরিকল্পনা ঘিরে তীব্র উদ্বেগে কাজ করে, কিন্তু সে নিজেই বুঝতে পারে না যে এটি ঘটছে কোল্ড ফিটের কারণে।

যেমন, বিয়েতে কোন রঙের পোশাক পরবেন কিংবা হানিমুনে কোথায় যাবেন – তা নিয়ে চিন্তা করতে করতে কেউ যদি কান্নায় ভেঙে পড়ে তবে তা হয়তো সব বিষয় নিয়ে তার আরও নিখুঁত হতে চাওয়ার কারণে না, বরং বিয়ে নিয়ে ভয়ের কারণেই হচ্ছে।

আর সবশেষে সঙ্গীর সঙ্গে অনবরত ঝগড়া হতে পারে এবং অন্যান্য ব্যবহারগত পরিবর্তনও আসতে পারে।

বিয়ের আগে কোল্ড ফিট কেন হয়?

সাইকোলিজিস্ট জোসেলিন চার্নার্সের মতে, “কোল্ড ফিট” অনুভবের একটা কারণ হয়তোবা বিয়ে, যা জীবনের অনেক বড় একটি সিদ্ধান্ত।

তিনি সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে বলেন,“অনিশ্চয়তা আর উদ্বেগের মধ্যে ভারসাম্যের অর্থ দাঁড়াতে পারে যে আমরা খুবই গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্তটি নিচ্ছে, যেমনটা নেওয়া উচিত।”

তিনি আরও বলেন, “"যদি কোনো বড় চাকরির সাক্ষাৎকারের আগে আমরা বিচলিত না হই, তাহলে হয়তো আমরা সেই চাকরিটা পাওয়ার জন্য খুব একটা আগ্রহী নই। বিয়ে বিষয়টিকে আমি একইভাবে ভাবি; আমাদের একটু বিচলিত থাকা উচিত, ক্রিটিক্যালি চিন্তা করা উচিত এবং একে সব দিক থেকে বিশ্লেষণ করা উচিত।”

এছাড়াও অজানার ভয়, বিয়ে সংক্রান্ত প্রস্তুতির চাপ, প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া নিয়ে উদ্বেগ, দুইজনের মিল হওয়া না হওয়া এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্য আলাদা হতে পারার মতো বিষয়গুলো নিয়ে ভাবনার কারণে কোল্ড ফিট হতে পারে বলে জানান তিনি।

কোল্ড ফিট মোকাবিলায় করণীয়

মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিয়ের আগে একইসঙ্গে সংশয় ও উচ্ছ্বসিত বোধ করা স্বাভাবিক।

সেক্ষেত্রে উদ্বেগ বা ভয়ের বিষয়গুলোকে স্বাভাবিক হিসেবে ধরে নেয়া এবং একইসঙ্গে ভবিষ্যৎ সঙ্গীর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা জরুরি। এতে করে পরবর্তী সময়ে কোল্ড ফিট দেখা দিলেও, সহজেই তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

এছাড়াও পরিবার, বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেও কোল্ড ফিট কাটানো যেতে পারে।

নিজের সঙ্গে বোঝাপড়াটও জরুরি। সম্পর্কে যে বিষয়গুলো সামনে আসছে তা কি সমাধান সম্ভব কি-না সে বিষয়েও বুঝতে হবে।

আর এগুলোর কোনোটিতে কাজ না হলে শরণাপন্ন হতে পারেন কোনো কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট বা কিংবা কাপল থেরাপিস্টের।