অ্যামনেস্টি: পাকিস্তানকে সংবাদমাধ্যমে দমন-পীড়ন বন্ধ করার আহ্বান

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের নেতৃত্বে ১৩টি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নাগরিক সংগঠনের একটি জোট যৌথভাবে একটি আবেদন জানিয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) অ্যামনেস্টি এক চিঠিতে, পাকিস্তান কর্তৃপক্ষকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার নিয়ে কাজের ওপর বাড়তে থাকা সব ধরনের বিধিনিষেধ অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। 

অ্যামনেস্টি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এবং আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারারের কাছে পাঠানো খোলা চিঠিতে সতর্ক করে বলেছে, জাতীয় নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা এবং ‘ভুল তথ্য’ যেন ভিন্নমতকে অপরাধ হিসেবে দেখানো, সংবাদকক্ষ নিয়ন্ত্রণ করা বা পুরো জনগোষ্ঠীকে যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন করার অজুহাত না হয়। 

জোটভুক্ত সংগঠনগুলো বলেছে, ইলেকট্রনিক অপরাধ প্রতিরোধ আইন (পেকা)-এর অধীনে ‘অস্পষ্ট সাইবার অপরাধের ধারা ব্যবহার করে আইনে সুরক্ষিত মত প্রকাশকে অপরাধ হিসেবে দেখানো এবং সমালোচনামূলক কণ্ঠকে ভয় দেখানোর একটি বড় ধারা’ দেখা যাচ্ছে। 

চিঠিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি পরিচিত সাংবাদিকদের, যার মধ্যে আসাদ আলী তুরও আছেন, তলব করা হয়েছে। পাশাপাশি বড় বড় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদক এবং স্থানীয় প্রেস ক্লাবগুলোকেও নোটিশ দেওয়া হয়েছে। 

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শুধু আইনি পদক্ষেপ নয়, সংবাদকক্ষ ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর ওপর সরকারের চাপও বেড়ে চলেছে। 

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলেছে, সংবেদনশীল রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন করার কারণে সাংবাদিকদের সম্প্রচার থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মুনিজায়ে জাহাঙ্গীর, মতিউল্লাহ জান এবং কাশিফ আব্বাসির নাম উল্লেখ করেন। 

আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি, পাকিস্তান ইলেকট্রনিক মিডিয়া নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের শাস্তিমূলক পদক্ষেপেরও নিন্দা জানায়।