বিলাসবহুল বিমানে রাত কাটানোর সুযোগ, আছে শোবার ঘর, বাথরুম, রান্নাঘর

ইংল্যান্ডের ব্রিস্টল শহরের একটি শিল্পাঞ্চলে দাঁড়িয়ে থাকা বোয়িং ৭২৭ উড়োজাহাজ এখন আর আকাশে ওড়ে না। বরং এটি পরিণত হয়েছে ব্যতিক্রমী এক আবাসনে। ‘পিচএয়ার’ নামের এই উড়োজাহাজে রয়েছে দুটি লাউঞ্জ, কিং সাইজের বিছানাসহ শোবার ঘর, বাথরুম, রান্নাঘর ও আসল ককপিট।

সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৬৭ সালে প্রথমবার আকাশে ওড়ে উড়োজাহাজটি। ১৯৬৮ সালে এটি জাপান এয়ারলাইনসের বহরে যুক্ত হয়। পরে ১৯৮১ সালে ধনীদের ব্যবহারের উপযোগী একটি ব্যক্তিগত জেটে রূপান্তর করা হয়। প্রায় তিন দশক ব্যবহারের পর ২০১২ সালে উড়োজাহাজটি অবসর নেয়।

অবসর নেওয়ার পর পশ্চিম ইংল্যান্ডের একটি উড়োজাহাজের কবরস্থানে থাকা বিমানটির সন্ধান পান স্থানীয় উদ্যোক্তা জনি পালমার। পরে তিনি সেটি কিনে নেন। উড়োজাহাজটির ডানা ও ইঞ্জিন খুলে ফেলার পর সড়কপথে সেটি ব্রিস্টলে নিয়ে যাওয়া হয়।

পালমার জানান, ছোটবেলা থেকেই তার একটি উড়োজাহাজের মালিক হওয়ার ইচ্ছা ছিল। তবে বিমান ওড়ানোর চেয়ে এর প্রকৌশল ও ইঞ্জিন তৈরির বিষয়ই তাকে বেশি আকৃষ্ট করত। তাই তিনি এমন একটি উড়োজাহাজ চেয়েছিলেন, যেটি পুরোপুরি তার নিজের হবে, কিন্তু আর আকাশে উড়বে না।

প্রথম দিকে পালমার উড়োজাহাজটি সন্তানদের পার্টি ও রাত কাটানোর জায়গা হিসেবে ব্যবহার করতেন। পরে নতুনত্বের আকর্ষণ কমে গেলে সেটিকে স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার জন্য তালিকাভুক্ত করেন।

‘পিচএয়ার’-এর ভাড়া সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে প্রতি রাতে ২৫০ পাউন্ড বা প্রায় ৩৪০ ডলার থেকে শুরু হয়। সপ্তাহান্তে তা বেড়ে ৫০০ পাউন্ড বা প্রায় ৬৮০ ডলার পর্যন্ত হয়। বড়দিনের সময়ে ভাড়া ১ হাজার পাউন্ডেরও বেশি হতে পারে।

এক হাজার বর্গফুটের বেশি জায়গাজুড়ে থাকা উড়োজাহাজটির ভেতরের সাজসজ্জায় এখনো ১৯৮০-এর দশকের আবহ অনেকটাই অক্ষত রয়েছে। দুটি লাউঞ্জের পাশাপাশি আছে কিং সাইজের বিছানাসহ মূল শোবার ঘর, শাওয়ারসহ বাথরুম, সোফা ও পূর্ণাঙ্গ রান্নাঘর।

তবে অতিথিদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গাগুলোর একটি হলো আসল ককপিট। সেখানে বসে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা দেখার পাশাপাশি বিভিন্ন বোতাম চাপার সুযোগও রয়েছে। বিমানটি আর উড়বে না বলে সক্রিয় উড়োজাহাজের ককপিটে যে স্বাধীনতা পাওয়া যায় না, এখানে তা পাওয়া সম্ভব।

উড়োজাহাজটি প্রস্তুত করার কাজে যুক্ত পাত্রিজা চুদজিকা জানান, সম্প্রতি এক অতিথি তার ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে এসেছিলেন। ওই ব্যক্তি নিজেই একজন পাইলট। ছেলেকে বিমানের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা দিতে তিনি তাকে ককপিটে বসিয়েছিলেন।

তবে একা রাত কাটালে জায়গাটি কিছুটা ভৌতিক মনে হতে পারে। বিশেষ করে রাতে শিল্পাঞ্চলটি প্রায় নির্জন হয়ে যায়। তখন উড়োজাহাজটির ধাতব কাঠামোর ওপর বাতাসের শব্দও স্পষ্ট শোনা যায়।

অবশ্য অতিথিদের জন্য বাইরের গরম পানির টব ও সনার ব্যবস্থাও রয়েছে। ফলে আকাশে না উড়লেও পুরোনো একটি বিলাসবহুল বিমানে রাত কাটানোর অভিজ্ঞতা নিতে এখন সেখানে ভিড় করছেন ভিন্নধর্মী আবাসনের সন্ধানী অতিথিরা।