ভারী বৃষ্টিতে ডুবলো ব্যাংকক, ৫০ জেলা দুর্যোগপূর্ণ ঘোষণা

টানা ভারী বৃষ্টিতে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের ৫০ জেলাকে দুর্যোগপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করেছে নগর কর্তৃপক্ষ।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এ ঘোষণা দেওয়া হয়। ফলে স্থানীয় সংস্থাগুলো বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ব্যাংককের গভর্নর চাদচার্ট সিত্তিপুন্ট জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানীতে প্রায় ৩০০ মিলিমিটার (১১.৮ ইঞ্চি) বৃষ্টিপাত হয়েছে।

শহরের একটি খালের কাছে বসবাসকারী ৬৭ বছর বয়সী দোকানি সোমকিদ ফুয়েক-নগাম বলেন, “পানি ক্রমেই বাড়ছে। এখন বাইরে বের হওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে। পানি প্রায় কোমরসমান হয়ে গেছে।”

তিনি আরও বলেন, “গত দুই দিন ধরে দোকান বন্ধ রাখতে হয়েছে। নিয়মিতই এলাকায় পানি ওঠে, তবে এবারের পরিস্থিতি ২০১১ সালের বন্যার চেয়েও ভয়াবহ বলে মনে হচ্ছে।”

বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে প্রায় একটানা বৃষ্টি হওয়ায় ব্যাংককের বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। একইসঙ্গে শহরের খালগুলোর পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় অনেক খালপাড়ের বাড়ি ও রেস্তোরাঁয় পানি ঢুকে পড়েছে।

শহরের পূর্বাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে বলে জানিয়েছেন গভর্নর চাদচার্ট সিত্তিপুন্ট। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, “বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। পানি নিষ্কাশনের জন্য পাম্প চালানো হচ্ছে, কিন্তু খালগুলো পানিতে পূর্ণ হয়ে গেছে। আর যারা খালের কাছাকাছি বসবাস করেন, তারাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।”

এ অবস্থায়  বাসিন্দাদের গাড়ি উঁচু জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। 

জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা সরঞ্জামের ওপর নির্ভরশীল শয্যাশায়ী রোগীদেরও সাময়িকভাবে হাসপাতালে থাকার বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন গভর্নর।

বিবিসি লিখেছে, বছরের এ সময়ে থাইল্যান্ডে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত সাধারণ ঘটনা হলেও সাম্প্রতিক অতিবর্ষণ ব্যাংককের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে দিয়েছে। যানজটের জন্য পরিচিত শহরটির প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে থাইল্যান্ডজুড়ে ভয়াবহ বন্যায় ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা যায় এবং লাখ লাখ বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।