Saturday, September 26, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পানির নিচে ব্যাংকক, জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা

পরিস্থিতি বিবেচনায় বাসিন্দাদের ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২১ পিএম

টানা ৪৮ ঘণ্টার ভারি বৃষ্টিতে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের বেশিরভাগ সড়ক তলিয়ে গেছে। ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কারণে শহরটিতে জরুরি বন্যা দুর্যোগ ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বাসিন্দাদের ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শহরের খালগুলোর আশপাশে বসবাসকারীদের ঘরের মালামাল দ্রুত ওপরের তলায় সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। 

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) অতিবৃষ্টিতে ব্যাংককের বিভিন্ন সড়ক পানিতে ডুবে যাওয়ার পাশাপাশি যান চলাচলও প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বছরের এ সময়ে থাইল্যান্ডে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত সাধারণ ঘটনা। তবে সাম্প্রতিক অতিবর্ষণে ব্যাংককের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। যানজটের জন্য পরিচিত শহরটির প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাপক ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রবিবার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে শহরের খালগুলোর পানি উপচে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মধ্য ব্যাংককের উত্তরে একটি খালের পাশে বসবাসকারী ৬৭ বছর বয়সি সোমকিদ ফিউক-নগাম বলেন, "পানি আসতেই আছে। এখন বাইরে যাওয়া কঠিন। এখন তো পানি কোমর পর্যন্ত উঠে গেছে।"

তিনি বলেন, "আমি কোথাও যেতে পারছি না। দুই দিন ধরে আমার দোকান বন্ধ রেখেছি।"

ফিউক-নগামের ভাষ্য, ২০১১ সালে দেশজুড়ে বন্যার সময় ব্যাংককে যে পরিস্থিতি হয়েছিল, এবার শহরের পানির উচ্চতা তার চেয়েও খারাপ বলে মনে হচ্ছে।

২০১১ সালের চরম আবহাওয়াজনিত সেই দুর্যোগ প্রায় তিন মাস ধরে চলেছিল। ওই বন্যায় পুরো থাইল্যান্ডে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়। তবে এবারের বন্যায় ব্যাংককে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

থাই আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, সপ্তাহজুড়ে আরও ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক কয়েক দিনের বৃষ্টির জন্য দায়ী নিম্নচাপটি মধ্য থাইল্যান্ডের দিকে সরে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ব্যাংককের গভর্নর চাদচার্ট সিত্তিপুন্ট জানিয়েছেন, শহরের পূর্বাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, "বৃষ্টি ঝরেই যাচ্ছে এবং আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আমরা পাম্প করে পানি সরানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু খালগুলোর পানি পূর্ণ হয়ে গেছে।"

তিনি আরও বলেন, "খালের পাশে যারা থাকেন, তারাই এখন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।"

   

About

Popular Links

x