জাতিসংঘ: সমাজ থেকে নারীদের ‘অদৃশ্য’ করে দিচ্ছে তালেবান

নারীদের ওপর তালেবান সরকারের বিভিন্ন বিধিনিষেধের লক্ষ্য হচ্ছে তাদের আফগান সমাজে “অদৃশ্য” করে তোলা। জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষক বৃহস্পতিবার (২৬ মে) দেশটিতে সফরের সময় এ কথা বলেছেন।

বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

গত বছর দেশটিতে তালেবান ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকে ইসলাম সম্পর্কে তাদের কঠোর দৃষ্টিভঙ্গি মেনে চলার জন্য নারীদের ওপর বিভিন্ন  নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সরকারি চাকরি ও একা ভ্রমণে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

চলতি মাসে আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ নেতা এবং তালেবান প্রধান হিবাতুল্লাহ আখুনন্দজাদা জনসমক্ষে নারীদের মুখসহ সম্পূর্ণ দেহ ঢেকে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

আফগানিস্তানে নিয়োজিত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি রিচার্ড বেনেট বলেন, “এই নীতিগুলো নিরঙ্কুশ লিঙ্গ বিচ্ছিন্নতার একটি নমুনা এবং এসবের উদ্দেশ্য হল সমাজে নারীদের অদৃশ্য করে তোলা।”

বৃহস্পতিবার আফগানিস্তানে মেয়েদের জন্য মাধ্যমিক বিদ্যালয় পুনরায় চালুর দাবিতে নারীদের বিক্ষোভ যখন তালেবান যোদ্ধারা ভেস্তে দিচ্ছিল তখন তার এমন মন্তব্য এলো।

সমাবেশের সংগঠক মুনিসা মুবারিজ এএফপিকে বলেন, “বিক্ষুব্ধ তালেবান বাহিনী এসে আমাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।”

গত মার্চে তালেবান সরকার একবার মেয়েদের জন্য স্কুল খোলার ঘোষণা দেয়। কিন্তু মাত্র কয়েক ঘণ্টার পর সেই ঘোষণা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সরকার এখনও এই সিদ্ধান্তের সুস্পষ্ট কোনো কারণ জানায়নি। তবে কর্মকর্তারা বলছেন যে প্রতিষ্ঠানগুলো শিগগিরই আবার চালু হবে।

বিদেশী সরকারগুলো জোর দিয়ে বলেছে যে, তারা আনুষ্ঠানিকভাবে তালেবান প্রশাসনকে স্বীকৃতি দেবে কিনা তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে মানবাধিকারের ওপর তালেবানের রেকর্ড, বিশেষ করে নারী অধিকারের বিষয় মুখ্য হবে।