বিশ্বের সবচেয়ে দামি আমের দাম বাংলাদেশে কম কেন?

জাপানি শব্দ “মিয়াজাকি”, যার অর্থ “সূর্যডিম”। মিয়াজাকি একটি আমের নাম। সাধারণ কোনো আম নয়, এটিই বিশ্বের সবচেয়ে দামি আম। এই আমের রং সূর্যের মতোই রক্তিম, আবার আকৃতি ডিমের মতো; সেজন্য নাম সূর্যডিম।

মিয়াজাকি আমের চাষ ইদানিং বাংলাদেশেও হচ্ছে। ফলনও বেশ ভালো বলে জানাচ্ছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা। তবে বিভিন্ন দেশে যে আম লাখ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে সেই আমের কিন্তু বাংলাদেশে দাম এতটা বেশি নয়।

এই যেমন পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেই গত বছর এই আমের কেজি আড়াই লাখ রুপিতেও বিক্রি হয়েছে। জাপানে ২০১৯ সালে এক জোড়া মিয়াজাকির দাম উঠেছিল প্রায় ৫,০০০ ডলার, অর্থাৎ চার লাখ টাকার বেশি।

বাংলাদেশে ধীরে ধীরে মিয়াজাকির বাণিজ্যিক উৎপাদন বাড়ছে। দেশে শুরুর দিকে প্রতি কেজি আম ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। গত বছর অনেক খামারি ২,০০০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। এর কমেও কেউ কেউ বিক্রি করেছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের “বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের” তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ যাবতকালের সর্বোচ্চ ২৫ টন মিয়াজাকি উৎপাদিত হয়েছে। তার আগের বছর হয়েছিল ২৪ টন। বাংলাদেশে এ আম আসার পর এবার সর্বোচ্চ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। মাঠ পর্যায়েও এ আমের ভালো উৎপাদনের চিত্র পাওয়া গেছে।

তবে প্রশ্ন হলো বাংলাদেশে এই আমের দাম তুলনামূলক কম হওয়ার কারণ কী? দিনাজপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক মো. এজামুল হক বলেন, “মিয়াজাকির ফলন যেমন বাড়ছে, তেমনি এর সঙ্গে বাড়ছে জনপ্রিয়তা। এবার এ পর্যন্ত অন্তত ২০০ চারা উৎপাদন ও বিতরণ হয়েছে। আগে এ আম নিয়ে এতটা আগ্রহ ছিল না।”

দৈনিক প্রথম আলো এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে মিয়াজাকি আমের দাম কম হওয়া নিয়ে কৃষিবিদ এবং আম বিষয়ে একাধিক বইয়ের লেখক মৃত্যুঞ্জয় রায়ের উদ্ধৃতি দিয়েছে।

সেখানে মৃত্যুঞ্জয় রায় বলেছেন, “মিয়াজাকির উৎপাদনে আসলে যে যত্ন নেওয়ার দরকার হয়, তা আমাদের এখানে কিছুই প্রায় হয় না। আর অন্য আমের জাতের মধ্যেই এর উৎপাদন হয়।”

তিনি বলেন, “জাপানে বা অন্যত্র মিয়াজাকির জন্য আলাদা নেট হাউস তৈরি থাকে। একেকটি আমের জন্য বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়। এতে কতটা আলো পড়ছে, কতটা পানি দরকার, তা মেপে মেপে দেওয়া হয়।”

মৃত্যুঞ্জয় রায় বলেন, “মিয়াজাকির মূল আকর্ষণ এর রং। বিশেষ যত্ন নিলেই এমন রং হয়। কিন্তু আমাদের এখানে সেই রংটাই তো হয় না।”