দৃকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ‘বুক পেতেছি, গুলি কর’ শীর্ষক প্রদর্শনী

মিডিয়া সংস্থা দৃকের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর দৃক গ্যালারিতে শুরু হয়েছে “বুক পেতেছি, গুলি কর” শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী।

শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন গণ-অভ্যুত্থানে আহত শিক্ষার্থী ও শহিদ পরিবারের সদস্যরা।

এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন আন্দোলনে নিহত জুলফিকার আহমেদ শাকিলের মা বিবি আয়েশা, সাংবাদিক হাসান মেহেদীর স্ত্রী ফারহানা ইসলাম পপি, ফারহান ফাইয়াজের খালা ফারজানা মুনমুন, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী শাহিনুর সুমি এবং গুলিতে আহত শিক্ষার্থী সাইফুদ্দিন মুহাম্মদ এমদাদ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহিদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থানে আহতদের পাশাপাশি নিজেদের স্বামী-সন্তান হারানোর যন্ত্রণা তুলে ধরেন স্বজনেরা।

রেসিডেন্সিয়াল মডেলের নিহত ছাত্র ফারহান ফাইয়াজের খালা নাজিয়া খান বলেন, “আমাদের আর হারানোর কিছু নেই কারণ আমরা সবকিছু হারিয়েছি। আমরা শুধু খুনিদের পথ দেখতে চাই। আমরা শহিদ পরিবারের সদস্যরা রাষ্ট্রের কাছে হত্যাকারীদের বিচার ছাড়া কিছুই চাই না।”

ঢাকা টাইমসের নিহত সাংবাদিক হাসান মেহেদীর স্ত্রী ফারহানা ইসলাম পপি বলেন, “তারা আমার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। জ্ঞান না হারানো পর্যন্ত তাকে আঘাতের পর আঘাত করা হয়েছে, গুলি করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন "আমার দুটি মেয়ে আছে। আমার স্বামী বড় মেয়েকে ডাক্তার বানাতে চেয়েছিলেন, ছোট মেয়েকে আগামী বছর একটি নামী স্কুলে ভর্তি করতে চেয়েছিলেন। আমি জানি না আমরা কীভাবে বেঁচে থাকব বা কীভাবে আমি তার স্বপ্নকে সত্যি করব।”

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আলোকচিত্রীদের ক্যামেরায় ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের স্থিরচিত্র নিয়ে সাজানো হয়েছে এ প্রদর্শনী। সেখানে লাশ, পতাকা, পুলিশের নির্যাতন, বিক্ষোভ থেকে শুরু করে পোষা প্রাণীর আতঙ্কিত হওয়ার দৃশ্যও উঠে এসেছে। ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে এ প্রদর্শনী।

দৃকের প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল আলম বলেন, “একটি বই প্রকাশের পাশাপাশি ছবি নিয়ে একটি ভ্রাম্যমাণ জাদুঘর করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।”