দেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের পথে কোনো অসৎ প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করতে বাংলাদেশের মানুষ একতাবদ্ধ ও দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মদিন উপলক্ষে এই মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে যুবদল।
মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে সালাহউদ্দিন বলেন, “যারা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকম বক্তব্য দিয়ে নির্বাচনের বিষয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছে, তারা গণতন্ত্রের পক্ষে কোনো শক্তি নয়, তারা বাংলাদেশের মানুষের পক্ষেও নয়।”
তিনি বলেন, “তারা হয়তো কোনো কারণে নিজের কথাগুলো ইনিয়ে-বিনিয়ে বলছেন, যাতে নির্বাচন বিলম্বিত করা যায় অথবা বানচাল করা যায়। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের জন্য, ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য ঐক্যবদ্ধ। যারা এর বিরুদ্ধে বক্তব্য দেবে, তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষ রুখে দাঁড়াবে।”
সালাহউদ্দিন সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের প্রতি একজোট থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সব গণতান্ত্রিক শক্তি ও রাজনৈতিক দলকে অনুরোধ করব- যেভাবে আপনারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন, সেভাবেই আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু করতে ঐক্যবদ্ধ থাকুন।”
তিনি আরও বলেন, “সব গণতান্ত্রিক শক্তি ও রাজনৈতিক দলকে আমি অনুরোধ করছি, যেভাবে আমরা স্বাধীনতাবিরোধীদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম, আবারও সেভাবে ঐক্য তৈরি করুন। আসুন একত্রিত হয়ে আলোচনা করি এবং সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করি, যাতে গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের পথ সহজ হয়।”
সালাহউদ্দিন বলেন, “বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার নির্দেশনায় গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে সরকার ও সব গণতান্ত্রিক শক্তির সঙ্গে অনেকবার আলাপ-আলোচনা করা হয়েছে। তিনি নির্দেশনা দিয়েছিলেন, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্যের ভিত্তিতে গণতন্ত্র উত্তরণের পথ সহজ করতে হবে।”
তিনি বলেন, “আমরা জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য অপেক্ষমাণ। আমরা সেই গণতন্ত্রের জন্য অপেক্ষমাণ, যে গণতন্ত্রের জন্য আমাদের সন্তানরা শহীদ হয়েছেন, রক্ত দিয়েছেন, পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, অন্ধত্ব বরণ করেছেন। এই গণতন্ত্রের জন্য আমরা গত ১৫–১৬ বছর সংগ্রাম করেছি। এই গণতন্ত্রকে যদি আমরা বিনির্মাণ করতে চাই, একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক দেশ হিসাবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই।”
এর আগে গত ৯ আগস্ট প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছিলেন, “আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। এ লক্ষ্যে সারা দেশে নির্বাচন কমিশন জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।”
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “সমতার ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা জরুরি। আমাদের জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে হবে। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী যে জাতীয় ঐক্য তৈরি হয়েছে, সেই ঐক্য ধরে রাখতে হবে।”
তিনি বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার আজীবন গণতন্ত্রের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন সংগ্রাম থেকে শুরু করে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে নয় বছরের আন্দোলন, সংসদীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে তিনি দেশের গণতন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন বলে উল্লেখ করেন।
সালাহউদ্দিন বলেন, “খালেদা জিয়া শুধু একটি নাম নন, তিনি একটি ইতিহাস। খালেদা জিয়ার মতো নেত্রী থাকলে জাতির পথ হারানোর সুযোগ নেই। তিনি সারা জীবন গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন এবং এখনও বাংলাদেশের মানুষের জন্য আশীর্বাদ হয়ে আছেন।”
তিনি আরও বলেন, “আজ তার ৮১তম জন্মদিন। আমরা প্রার্থনা করি মহান আল্লাহ তাকে দীর্ঘায়ু দান করুন, যেন তিনি দেশের জনগণের জন্য আলোর দিশারি হয়ে থাকেন। গণতন্ত্রের রক্ষক ও দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের রক্ষক হিসেবে থাকেন।”