দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের “অপপ্রচারের” সঙ্গে বিএনপির “অপপ্রচার” এক হয়ে গেছে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, “জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত শান্তিরক্ষীদের প্রশ্নবিদ্ধ করতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালকে কাজে লাগাচ্ছে বিএনপি।”
সোমবার (১৯ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন খুবই চ্যালেঞ্জিং হবে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, “এখানে জাতীয় সঙ্কট, বিশ্ব সঙ্কটের সঙ্গে একাকার হয়ে গেছে। অর্থনৈতিক সঙ্কট রাজনৈতিক সঙ্কটের সঙ্গে একাকার হয়ে গেছে।”
তিনি বলেন, “নির্বাচনকে সামনে রেখে এখানে আমাদের দেশে একটা পোলারাইজেশন হচ্ছে এবং একটা ডিভাইসিভ অ্যাটিটিউট গড়ে উঠছে। এখানে পরস্পরবিরোধী মতের প্রদর্শন হচ্ছে। আমরা আশা করবো, দেশে শান্তিপূর্ণভাবে আমরা জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে পারবো।”
বিএনপির নেতৃত্বে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার তৎপরতা চলছে মন্তব্য করে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, “তারা নিজেরা ব্যর্থ হয়ে এখন বিদেশি শক্তিকে কাজে লাগাতে চায়। বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচার তারা করছে। যে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হওয়ার কথা, যে নির্বাচন আমাদের এই প্রথম একটা স্বাধীন নির্বাচন কমিশন পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে… এর আগে নির্বাচন কমিশন ছিল প্রধানমন্ত্রী অফিসের অধীনে।”
শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে বিএনপির হেরে যাওয়ার ভয় আছে মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, “তারা (বিএনপি) বোঝে শেখ হাসিনার যে জনপ্রিয়তা, এই অবস্থায় নির্বাচন হলে তারা নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারবে না। কাজেই এই নির্বাচনটাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার, এই নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করাই এখন তাদের কাজ। এই কাজ করতে গিয়ে তারা বিদেশিদের কাছে নালিশ করছে।”
আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি যাতে আর অগ্নিসন্ত্রাসের মতো কর্মকাণ্ড চালাতে না পারে, সেজন্য শান্তির কর্মসূচি দিয়ে মাঠে থাকার কথা জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
তিনি বলেন, “আমাদের লড়াই করতে হবে অশান্তির বিরুদ্ধে শান্তির জন্য। নির্বাচনের পরিবেশ ঠিক রাখতে হবে, কেউ যাতে বাধা দিতে না পারে। তাদের সংঘাত, উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের বিপরীতে আমরা আগামী নির্বাচন পর্যন্ত মাঠে থাকবো। আমরা অশান্তির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করবো। আমরা সংঘাতের বিরুদ্ধে শান্তি চাই।”
নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের আমন্ত্রণ জানানোর কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা আসুন। বিএনপি আপনাদের কাছে নির্বাচন নিয়ে নালিশ করে, নির্বাচনটা বাংলাদেশে কীভাবে হচ্ছে, কয়েকটা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হয়েছে, সেগুলো কীভাবে হয়েছে; এটা বিভিন্ন দেশের দূতাবাস আছে, তাদের লোকজন আছে, তারা এটা প্রত্যক্ষ করেছে।”
ওবায়দুল কাদের বলেন, “আগামী নির্বাচনে আমাদের নেত্রী গ্যারান্টি দিয়েছেন, বিদেশে গিয়েও বলেছেন বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। এটার নিশ্চয়তা প্রধানমন্ত্রী নিজে দিয়েছেন। আমরা সে কথাও আবারও বলছি, আমরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর।”
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে “প্যাথলজিক্যাল লায়ার” আখ্যা দিয়ে কাদের বলেন, “এত মিথ্যা কথা বলতে পারে, ‘কুত্তা নির্বাচন' বলে তারা। কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা যদি ন্যূনতম গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে তাহলে ‘কুত্তা মার্কা নির্বাচন' কোনো রাজনৈতিক দলের নেতার মুখে আসে! শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে? এই কথাটা আমি উইথড্র করতে বলেছি। এই ধরনের কথা তাদের মুখে আসে!”
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ, মাহবুব উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, বি এম মোজাম্মেল হক প্রমুখ।