বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যাপারে সরকারের অনুমতি মিললে দ্রুতই নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে চারটি দেশের হাসপাতালে খোঁজ নিচ্ছেন স্বজনরা।
লিভার সিরোসিসের সমস্যায় ভোগা খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য পরিবারের সদস্যদের প্রথম পছন্দ জার্মানি। এর বাইরে বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া এবং সিঙ্গাপুরের হাসপাতালগুলোও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
খালেদা জিয়ার ভাই সাঈদ ইস্কান্দার সর্বশেষ গত ২৫ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিদেশে নেওয়ার জন্য আবেদন করেন। আবেদনের কপি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। বিদেশে চিকিৎসার জন্য এবারের আবেদনে সরকারের ইতিবাচক সাড়া মিলবে বলে আশা করছেন পরিবারের সদস্যরা।
গত ৫০ দিন ধরে রাজধানী ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৭৮ বছর বয়সী খালেদা জিয়া। অবস্থার অবনতি হওয়ায় এর মধ্যে তাকে একাধিকবার কেবিন থেকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকরা বলছেন, তার অবস্থা সঙ্কটাপন্ন।
বিএনপির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর বিষয়ে সরকার এবার ইতিবাচক বলে মনে হচ্ছে। তবে, কখন এবং কোথায় নেওয়ার ব্যাপারে অনুমতি দেওয়া হবে সেটি নিশ্চিত নয়।”
সাঈদ ইস্কান্দার ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, "আমরা মন্ত্রণালয় থেকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া আশা করছি। খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার খুবই প্রয়োজন, যা শুধুমাত্র বিদেশে পাওয়া সম্ভব। ইতিবাচক ফলাফল পাওয়ার আশায় আমাদের আবেদন করেছি।"
খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিত্সক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, "তিনি গুরুতর অসুস্থ এবং তার লিভার ট্রান্সপ্লান্টসহ অবিলম্বে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন, যা দেশে সম্ভব নয়।"
তিনি জানান, লিভার সিরোসিসের কারণে খালেদা জিয়ার হার্ট এবং কিডনির জটিলতাগুলোর অবনতি হচ্ছে। যার ফলে তার শ্বাসকষ্ট এবং পেটের সমস্যা দেখা দিয়েছে।
এদিকে, খালেদা জিয়ার অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় সরকারকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, "আমরা আমাদের দলের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা এবং দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে কাজ করছি। খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর জন্য দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছি।”
মির্জা ফখরুল সম্প্রতি ঢাকায় জার্মান দূতাবাসের চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্স জান-রল্ফ জানোস্কির সঙ্গে আলাপ করেছেন। সরকার অনুমতি দিলে খালেদা জিয়ার সম্ভাব্য সর্বোত্তম চিকিৎসা দিতে জার্মানি প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্স।
গত ৯ আগস্ট সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেই থেকে তিনি ঢাকার এই হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় এর মধ্যে তাকে একাধিকবার কেবিন থেকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করা হয়।
মেডিকেল বোর্ড জানিয়েছে, খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে বাত, ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভার ও হৃদরোগে ভুগছেন। পরিপাকতন্ত্রে রক্তপাতের পাশাপাশি তিনি লিভার সিরোসিসেও ভুগছেন।
গত বছরের জুনে এনজিওগ্রাম পরীক্ষায় তার হৃদযন্ত্রে তিনটি ব্লক ধরা পড়লে একটিতে রিং পরানো হয়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে ২০১৮ সালে কারাগারে যান। দেশে কোভিড মহামারি শুরু হলে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ খালেদা জিয়াকে নির্বাহী আদেশে সাময়িক মুক্তি দেয় সরকার।