ফখরুল: একজনকে মহিমান্বিত করতে আওয়ামী লীগ পুরো ক্ষমতার অপব্যবহার করছে

একজনকে মহিমান্বিত করতে আওয়ামী লীগ পুরো ক্ষমতার অপব্যবহার করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, “আওয়ামী লীগ শুধু একজন মানুষকে মহিমান্বিত করার জন্য তাদের পুরো ক্ষমতার অপব্যবহার করে চলেছে। আমরা শেখ মুজিবের অবদানকে কখনো অস্বীকার করি না। কিন্তু কী করে অস্বীকার করা যাবে, যার ঘোষণায় আমরা স্বাধীনতার যুদ্ধ শুরু করেছিলাম। এটা যারা করতে চায়, তাদের রাজনৈতিক সংকীর্ণতা সেটা প্রমাণ হয়।”

সোমবার (৩ মে) ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করে মহিলা দল।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “প্রাথমিক স্কুলের বইতে সরকার মিথ্যা প্রচার করছে। সেখানে একজনের নাম ছাড়া আর কারও নাম নেই। সেখানে তাদের নেতা তাজউদ্দীন আহমদের নামও নেই। জেনারেল ওসমানীর নামও নেই। কেউই নেই। এক নেতা, এক দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ, এটাই তারা আজ প্রচার করছে।”

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদ ও সাবেক সেনাবাহিনীর প্রধান আজিজ আহমেদ আওয়ামী লীগের আসল চেহারা। পত্রিকা খুললেই দেখা যায় বেনজীরের নজিরবিহীন দুর্নীতি, সাবেক সেনাপ্রধানের নিষেধাজ্ঞা। আর তাদের (আওয়ামী লীগের) তথাকথিত সংসদ সদস্যকে কলকাতায় নিয়ে টুকরো-টুকরো করেছে। এই হচ্ছে তাদের চেহারা।”

আওয়ামী লীগ দেশটাকে ধ্বংস করে ফেলেছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “এখন সেনাবাহিনীর অবস্থায় কোথায়, যখন সাবেক প্রধানকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। পুলিশ বাহিনীর মর্যাদা কোথায় থাকে? যখন তাদের সাবেক প্রধানকে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে হয়।”

তিনি বলেন, “সংবাদমাধ্যমে দেখলাম, পাবনায় দুটি গরু বিক্রি হয়েছে ৪০ লাখ টাকায়। অথচ মানুষ এদিকে ডিম কিনতে পারছে না, লেখাপড়ার খরচ জোগাতে পারছে না। অন্যদিকে কেউ ৪০ লাখ টাকা দিয়ে গরু কিনছে। এমনটা কেন? দেশের অর্থনীতিকে এমন জায়গা নিয়ে যাওয়া হয়েছে, ধনীকে আরও ধনী করছে। আর গরিবকে আরও গরিব।”

সভায় বক্তব্য দেন মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা কামাল প্রমুখ।