বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও দলটির আন্তর্জাতিক-বিষয়ক সহসম্পাদক রুমিন ফারহানা বলেছেন, “আমি যদি এক বাপের বাচ্চা হয়ে থাকি, সরাইল-আশুগঞ্জ (ব্রাহ্মণাড়িয়া-২ আসন) থেকেই নির্বাচন করব। আমি বৃদ্ধ মাকে ঢাকার মাটিতে আল্লাহর জিম্মায় রেখে প্রতি সপ্তাহে দুই তিন দিন এই মাটিতে পড়ে থাকি তামাশা করার জন্য না। আমাকে বহিরাগত বলো। আমার বাবা এখান থেকে নির্বাচন করেছেন। আমি এখান থেকেই নির্বাচন করব।”
শনিবার (১০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা সদরের স্থানীয় পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে কর্মীসভায় রুমিন ফরহানা এসব কথা বলেন।
অনুসারীদের উদ্দেশ্যে রুমিন ফরহানা বলেন, “আমার হাতকে শক্তিশালী করুন। আমার হাতকে শক্তিশালী করা মানে খালেদা জিয়ার হাতকে শক্তিশালী করা, তারেক জিয়ার হাতকে শক্তিশালী করা, বিএনপির হাতকে শক্তিশালী করা।”
সরাইল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লস্করকে উদ্দেশ্য করে রুমিন ফারহানা বলেন, “তোমার বিরুদ্ধে কয়টা মামলা হয়েছে। আমি একা আওয়ামী লীগের ৩০০ এমপির বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। রাজ পথে রক্ত দিয়েছি। ১০১ জনের নাম প্রকাশ করতে পারো নাই। এখন তুমি নির্বাচন করবা। আরে আমার ঘরের কাজের লোক এবং আমার ড্রাইভারও নির্বাচন করতে চায়। আমি বলি, গণতন্ত্রের দেশ, নির্বাচন করো।”
রুমিন ফারহানা সামনে ব্রাহ্মণাড়িয়া-২ আসন (সরাইল-আশুগঞ্জ) থেকে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি সভা-সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছেন। ৫ আগস্টের পর সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন তিনি সরাইল ও আশুগঞ্জে অবস্থান করছেন।
রুমিন ফারহানা বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তি ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। বর্তমানে তিনি সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামের বাসিন্দা। গত সরকারের আমলে গঠিত বিজয়নগর উপজেলাটি একসময় ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার অধীন। তখন এলাকাটি ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-সদরের একাংশ) আসনের অন্তর্গত। বতর্মানে পুরো বিজয়নগর উপজেলাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের অন্তর্ভুক্ত।
১৯৭৩ সালের নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে রুমিন ফারহানার বাবা অলি আহাদ নৌকার প্রার্থী তাহের উদ্দিন ঠাকুরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তখন তাহের উদ্দিন ঠাকুর নির্বাচিত হয়েছিলেন।