মাশুকুর রহমান: অনির্বাচিত সরকার দেশের জন্য কল্যাণকর নয়

খন্দকার মাশুকুর রহমান মাশুক, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক। ছাত্র জীবনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে যুবদল হয়ে বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি ঢাকা ট্রিবিউনের সঙ্গে দেশের চলমান বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।

ঢাকা ট্রিবিউন: বিএনপি কেন বারবার নির্বাচনের রোডম্যাপ চাইছে?

খন্দকার মাশুকুর রহমান: দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে মানুষ ভোট দিতে পারে না। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের ভোটের ব্যবস্থাকে ভেঙ্গে দিয়েছে। দেশের মালিক জনগণ, তারা ভোটের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধিদের নির্ধারণ করেন। আপনি জানেন বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল। আমরা জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে চাই। তাই আমরা নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ জানতে চাই।

ঢাকা ট্রিবিউন: আপনি কি মনে করেন সরকার আগামী বছরের জুনের আগে নির্বাচন দেবে?

খন্দকার মাশুকুর রহমান: আমরা এই সরকারের ওপর ভরসা রাখতে চাই। তারা ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের কথা বলেছেন। আমি বিশ্বাস করি তারা তাদের অবস্থান ঠিক রাখবেন। জুন-জুলাই ভরা বর্ষা মৌসুম। ওই সময়টাতে নির্বাচন করাটা কঠিন হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে নির্বাচনের জন্য সব থেকে উপযুক্ত সময় হলো ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি। আমার মনে হয় সরকারকে এই বিষয়টি মাথায় রেখে কাজ করতে হবে।

ঢাকা ট্রিবিউন: সঠিক সময়ে নির্বাচন না হলে দেশে কী ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করেন?

খন্দকার মাশুকুর রহমান: একটি অনির্বাচিত সরকার কখনো দেশের জন্য কল্যাণকর নয়। বিএনপির রাজনীতির উদ্দেশ্য হলো জনগণের পাশে থাকা, জনগণের পক্ষে কাজ করা। এদেশের মানুষ দীর্ঘদিন যাবৎ ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত। বিএনপি মানুষের ভোটের অধিকারের জন্য দীর্ঘদিন যাবৎ সংগ্রাম করে যাচ্ছে। আগামীতে বিএনপি জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে মাঠে নামতে পারে। সেক্ষেত্রে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি হতেই পারে। আপনারা দেখেছেন ঢাকা শহরে একটি মিছিল-মিটিং করলে জনগণকে কত দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সেটাই তো একটা অস্থিরতা। আমি মনে করি এই সরকার সেইদিকে না গিয়ে খুব দ্রুত একটি নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে।

ঢাকা ট্রিবিউন: আগামী নির্বাচন ঘিরে বিএনপি কীভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে?

খন্দকার মাশুকুর রহমান: বিএনপি একটি নির্বাচনমুখী দল। ফ্যাসিস্ট বিরোধী সংগ্রাম করতে গিয়ে আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী খুন হয়েছেন, গুম হয়েছেন। আমাদের ৬০ লাখ নেতাকর্মী মামলার জালে আটকানো। তারপরও আমরা বলেছি, আপনারা যখন নির্বাচন দেবেন তখনই নির্বাচন করতে প্রস্তুত আমরা। দেশের ৩০০ আসনে আমাদের একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। সুতরাং নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করার জন্য আলাদাভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার কিছু নেই।

ঢাকা ট্রিবিউন: তরুণদের ভোট পাওয়ার জন্য বিএনপির কৌশল কী?

খন্দকার মাশুকুর রহমান: তরুণরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। যারা তরুণদের কাছে টানতে পারবে তাদের পাল্লা ভারি হবে। তরুণদের কথা চিন্তা করে আমাদের নেতা তারেক রহমান ৩১ দফা ঘোষণা দিয়েছেন। আমরা মনে করি এই ৩১ দফার মধ্যে তরুণদের আকৃষ্ট করার মতো যথেষ্ট উপাদান রয়েছে। আগামী দিনে এই তরুণরা বিএনপির দিকে ঝুঁকবে বলে আমি আশা করি।

ঢাকা ট্রিবিউন: তরুণরা কেন ৩১ দফার ওপর আস্থা রাখবে?

খন্দকার মাশুকুর রহমান: ৩১ দফার মধ্যে রাষ্ট্রের সব সংস্কারের কথা বলা আছে। আগামী দিনে যদি বিএনপি ক্ষমতায় যায় তাহলে আমরা ৩১ দফা বাস্তবায়ন করবো। এতে তরুণদের বেকার সমস্যাসহ বিভিন্ন সমস্যা দূর হবে। আমাদের নেতা তারেক রহমান যেহেতু তরুণ, তাই তরুণদের নিয়ে তার আলাদা ভাবনা রয়েছে। এই জন্য আমি মনে করি তরুণরা বিএনপির ওপর আস্থা রাখবে।