ফুটবল বিশ্বে একটা চটকদার কথা প্রচলিত আছে, মাঠে প্রতিপক্ষের গায়ে ‘হলুদ’ রং দেখলেই যেন অতিরিক্ত খ্যাপাটে রূপ ধারণ করে জার্মানি। ঠিক ১২ বছর আগে ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ব্রাজিলের বিখ্যাত হলুদ জার্সিকে লণ্ডভণ্ড করে ৭-১ গোলে জিতেছিল তারা। এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে জার্মানির সামনে পড়েছিল ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাও, যাদের জার্সিতেও ছিল হলুদের ছোঁয়া। আর তাতেই যেন এক যুগ আগের সেই ঐতিহাসিক ও নিষ্ঠুর রূপ ধারণ করল জার্মানরা।
আজ হিউস্টনে ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে পুঁচকে কুরাসাওকে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে শুভসূচনা করেছে জুলিয়ান নাগেলসমানের দল। এই বিধ্বংসী জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনরা মজার ছলে বলছেন, “হলুদ দেখলেই ক্ষেপে যায় জার্মানি!”
এই জয় কেবল জার্মানির পূর্ণ ৩ পয়েন্ট অর্জনের নয়, বরং ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম একটি ট্র্যাজেডিকে নতুন করে মনে করিয়ে দেওয়ার। ২০১৪ সালে ঘরের মাঠে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়ে ‘সেভেন আপ’ মিমের শিকার হয়েছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। এরপর আরও দুটি বিশ্বকাপ কাটলেও জার্মানির সময়টা খুব একটা ভালো যায়নি। তবে দীর্ঘ এক যুগ পর ঠিক একই ব্যবধানে কুরাসাওকে হারিয়ে বিশ্বমঞ্চে ব্রাজিলের সেই ক্ষতের অংশীদার বা এক নতুন ‘বন্ধু’ খুঁজে দিল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
মাত্র দেড় লাখ জনসংখ্যার দেশ কুরাসাও বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে আজ মাঠে নেমে এক নতুন রূপকথার জন্ম দিয়েছিল। নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে নেমে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের ৯ নম্বরে থাকা জার্মানির বিরুদ্ধে প্রথমার্ধে দুর্দান্ত লড়াইও করে তারা।
ম্যাচের ৬ষ্ঠ মিনিটে ফেলিক্স নেমেচার গোলে জার্মানি এগিয়ে গেলেও ২১ মিনিটে কুরাসাওয়ের কোমেনেনসিয়া গোল করে ম্যাচটিকে ১-১ সমতায় ফেরান। এটিই ছিল দেশটির ফুটবল ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ গোল। তবে এই গোলের পর সমতায় ফেরাই যেন দলটির জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। এরপরই কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করতে শুরু করে নাগেলসম্যানের শিষ্যরা।
৩৮ মিনিটে নিকো শ্লটারবেকের হেডে জার্মানি ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান ৩-১ করেন কাই হাভার্টজ।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে আর দাঁড়াতেই পারেনি কুরাসাও। ৪৭ মিনিটে জামাল মুসিয়ালা, ৬৮ মিনিটে নাথান ব্রাউন এবং ৭৮ মিনিটে ডেনিজ উনদাভ গোল উৎসব করলে জার্মানি এগিয়ে যায় ৬-১ ব্যবধানে। অবশেষে ম্যাচের ৮৮ মিনিটে ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করার পাশাপাশি দলের পক্ষে সপ্তম গোলটি করেন কাই হাভার্টজ।
পুরো ম্যাচে ৬৫ শতাংশ বল দখলে রেখে কুরাসাওয়ের গোলবারে ২৬টি শট নেয় জার্মানি, যার ১১টিই ছিল লক্ষ্যে। ম্যাচ শেষে বড় ব্যবধানে হারলেও কুরাসাওয়ের লড়াকু ফুটবল গ্যালারির দর্শকদের বাহবা কুড়িয়েছে। তবে সব ছাপিয়ে ফুটবল বিশ্বে এখন আলোচনার তুঙ্গে জার্মানির সেই চিরচেনা ‘সেভেন আপ’ এবং প্রতিপক্ষের হলুদ জার্সির গল্প।