ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উন্মাদনার মাঝে ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের বিপুল ব্যয়ের সাথে বিশ্বজুড়ে ক্ষুধার্ত মানুষের খাদ্যসংকটের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেছেন জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা ও গবেষক শায়খ আহমাদুল্লাহ। বিপুল অর্থ ব্যয়ের তুলনায় পৃথিবীর ক্ষুধার্ত মানুষের খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৫ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই গভীর উদ্বেগের কথা জানান।
নিজের ফেসবুক পোস্টে বিগত কাতার বিশ্বকাপের খরচের সাথে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির একটি হিসাব তুলে ধরে শায়খ আহমাদুল্লাহ লেখেন, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ব্যয় হয়েছিল ২২০ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিসলি বলেছেন, মাত্র ৪০ বিলিয়ন ডলার হলেই প্রতি বছর পৃথিবীর ৮২ কোটি ৮০ লাখ ক্ষুধার্ত মানুষের খাদ্যচাহিদা পূরণ করা সম্ভব।
পোস্টে তিনি আরো লিখেন, চলতি বিশ্বকাপে কর্পোরেট দুনিয়ায় দুই লাখ কোটি টাকা ক্ষতি হতে পারে বলে তাদের জরিপে উঠে এসেছে। বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোর সময়সূচির সঙ্গে মিলিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩৭ শতাংশ কর্মী তাদের কাজের রুটিন পরিবর্তন করার পরিকল্পনা করছেন। এছাড়া ২৭ শতাংশ কর্মী সরাসরি জানিয়েছেন, তারা দেরিতে অফিসে এসে আগেভাগে চলে গিয়ে কিংবা পুরোপুরি অনুপস্থিত থেকে কর্মদিবস ফাঁকি দিতে পারেন।
বর্তমান বিশ্বের এই বৈষম্যমূলক পরিস্থিতিকে মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় হিসেবে দেখছেন এই ইসলামি চিন্তাবিদ। পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, ‘‘এই উন্মাদনা প্রমাণ করে, মনুষ্যত্বের মর্যাদা আমরা অনেক আগেই হারিয়ে ফেলেছি। পৃথিবীজুড়ে এখন কেবলই মনুষ্যত্ব-বিবর্জিত ‘খোলস-মানুষের’ বসবাস।”
বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে তুমুল উত্তেজনা ও উন্মাদনা চলছে, ঠিক সেই মুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোটি মানুষের পছন্দের এই বক্তার এমন মানবিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণের বার্তাটি নেটিজেনদের মাঝে ব্যাপক আলোচনা ও আলোড়নের সৃষ্টি করেছে। অনেকেই এই পোস্টের নিচে মন্তব্য করে বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনীতির এই চরম বৈষম্যের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করছেন।



