ক্রীড়ার সবচেয়ে বড় মহাযজ্ঞ ফিফা বিশ্বকাপে শুভসূচনা করেছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। তবে এই জয় কেবল ৩ পয়েন্টের নয়, বরং এক যুগ আগের এক ঐতিহাসিক রাতের স্মৃতি নতুন করে ফিরিয়ে আনার। হিউস্টনে আজ গ্রুপ পর্বের ম্যাচে পুঁচকে কুরাসাওকে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে জুলিয়ান নাগেলসমানের দল। আর এই ব্যবধানের জয় চায়ের স্টল থেকে শুরু করে ফুটবল আড্ডায় আবারও ফিরিয়ে এনেছে সেই চিরচেনা ‘সেভেন আপ’-এর গল্প, যার প্রথম শিকার হয়েছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।
ঠিক ১২ বছর আগে ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আয়োজক ব্রাজিলকে ঘরের মাঠে এই ৭-১ ব্যবধানেই হারিয়েছিল জার্মানি। এরপর আরও দুটি বিশ্বকাপ কাটলেও জার্মানির সময়টা ভালো যায়নি। দীর্ঘ এক যুগ পর যেন ব্রাজিলের সেই ‘সেভেন আপ’ ট্র্যাজেডির ক্ষত ভাগ করে নেওয়ার মতো এক ‘বন্ধু’ খুঁজে পেল ফুটবল বিশ্ব।
পুরো দেশের জনসংখ্যা মাত্র দেড় লাখের কাছাকাছি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে আজ মাঠে নেমে এক নতুন রূপকথার জন্ম দিয়েছিল ক্যারিবীয় দ্বীপ রাষ্ট্র কুরাসাও। বিশ্বমঞ্চে প্রথমবারের মতো খেলতে এসে শুরু থেকেই তারা নিজেদের ফুটবলশৈলী প্রদর্শনের চেষ্টা করে। কিন্তু প্রথম ম্যাচেই তাদের মুখোমুখি হতে হয় বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের ৯ নম্বরে থাকা শক্তিশালী জার্মানির রূঢ় বাস্তবতার।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজায় জার্মানি। খেলার ঠিক ষষ্ঠ মিনিটেই ফ্লোরিয়ান ভির্টজের নিখুঁত পাস থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ফেলিক্স নেমেচা। তবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে একদমই ভড়কে যায়নি কুরাসাও। ২১ মিনিটে জেরেমি লোকাদিয়ার শট প্রতিহত হওয়ার পর ফিরতি বলে কোমেনেনসিয়ার নেওয়া শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে জালে জড়ালে ১-১ সমতায় ফেরে কুরাসাও। এটিই তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম গোল।
ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার ঠিক ২ মিনিট আগে (৮৮ মিনিটে) উনদাভের নিখুঁত থ্রু পাস থেকে কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগ ভেঙে ঠান্ডা মাথায় নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন কাই হাভার্টজ। আর তাতেই নির্ধারিত হয় জার্মানির ৭-১ গোলের মহাকাব্যিক জয়।
পুরো ম্যাচজুড়ে বল দখল থেকে শুরু করে আক্রমণ, সবখানেই ছিল জার্মানদের একচ্ছত্র আধিপত্য। ম্যাচে ৬৫ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে জার্মানি। পুরো ম্যাচে তারা ২৬টি শট নেয়, যার ১১টিই ছিল অন-টার্গেট বা লক্ষ্যে। বিপরীতে কুরাসাও পুরো ম্যাচে মাত্র ৬টি শট নিতে পেরেছিল, যার ২টি ছিল লক্ষ্যে। বিশাল ব্যবধানে হারলেও ম্যাচজুড়ে কুরাসাওয়ের ইতিবাচক ও কাউন্টার-অ্যাটাকিং ফুটবল গ্যালারির দর্শকদের মন জয় করেছে। তবে শেষ পর্যন্ত ৭-১ ব্যবধানের এই বড় জয় দিয়ে এক যুগ আগের ব্রাজিল-বিধ্বস্ত রাতের স্মৃতিই যেন নতুন করে মনে করিয়ে দিল জার্মানি।



