দাপুটে পারফরম্যান্সে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। ম্যাচজুড়ে বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখানো লা রোজারা এগিয়ে গিয়েও সমতায় ফেরে। তবে শেষ মুহূর্তে মিকেল মেরিনোর গোলে জয় নিশ্চিত করে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্পেন। কোচ দে লা ফুয়েন্তে এদিন শুরুর একাদশে পেদ্রির জায়গায় সুযোগ দেন ফাবিয়ান রুইজকে। সেই আস্থার প্রতিদান দিতে মাত্র ৩০ মিনিটই সময় নেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার।
দারুণ এক দলীয় আক্রমণ থেকে দানি ওলমোর জোরালো শট প্রথমে অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। তবে ফিরতি বলে সবার আগে পৌঁছে রিবাউন্ড থেকে জোরালো শটে বল জালে পাঠান ফাবিয়ান রুইজ। বলটি এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ালে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্পেন।
গোল হজমের পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা শুরু করে বেলজিয়াম। প্রথমার্ধের ৪১তম মিনিটে দ্রুতগতির এক পাল্টা আক্রমণ থেকে তিমোথি কাস্তানিয়ের ক্রস পেয়ে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে উনাই সিমনকে পরাস্ত করেন চার্লস ডি কেটেলারে। তার গোলে ১-১ সমতায় ফিরে বিরতিতে যায় দুই দল।
চলতি বিশ্বকাপে এটিই ছিল স্পেনের জালে প্রথম গোল। এর আগে পুরো টুর্নামেন্টে একবারও গোল হজম করেনি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা।
দ্বিতীয়ার্ধে বেলজিয়াম বড় ধাক্কা খায়। চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন অভিজ্ঞ গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। তার পরিবর্তে গোলবারের দায়িত্ব নেন তরুণ সেনে ল্যামেন্স।
সমতায় থাকা ম্যাচে দুই দলই একের পর এক আক্রমণ চালালেও নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে আসে নিষ্পত্তির মুহূর্ত। ৮৮তম মিনিটে বেলজিয়ামের ডি-বক্সে তৈরি হওয়া জটলার মধ্যে বল পেয়ে যান মিকেল মেরিনো। সুযোগ হাতছাড়া না করে ঠান্ডা মাথায় নিখুঁত শটে বল জালের মাঝখান দিয়ে পাঠিয়ে স্পেনকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হলে ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়েই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে স্পেন। এখন শিরোপার আরও এক ধাপ কাছে পৌঁছে গেল ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা।