হংকংয়ে শুরু হয়েছে গে গেমসের একাদশ আসর। শনিবার (৪ নভেম্বর) থেকে শুরু হওয়া এবারের আসর অনুষ্ঠিত হচ্ছে এশিয়ার হংকং এবং উত্তর আমেরিকার মেক্সিকোতে।
“গে গেমস” হলো এলজিবিটিকিউপ্লাস মানুষদের অংশগ্রহণে অনু্ষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। ফেডারেশন অব দ্য গে গেমস (এফজিজি) চার বছর পর পর এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।
এক বিবৃতিতে এফজিজি জানায়, এই প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্য হলো সমকামী, উভকামী, ট্রান্সজেন্ডার এবং এলজিবিটিকিউপ্লাস গোত্রের মানুষের সম্মান ও মর্যাদা বাড়ানো। গে গেমসের উদ্দেশ্য হলো, এই গোত্রের মানুষের প্রতি সম্মান ও তাদের বিষয়ে বোঝাপড়া বাড়ানো।
“বৈচিত্র্যে একতা” নামে আয়োজিত “গে গেমস” হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় খেলা, শিল্প ও সংস্কৃতির সমাবেশ যা একাত্মতাকে ধারণ করে বলে জানায় সংস্থাটি।
১৯৮২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রানিসকোতে প্রথম গে গেমসের আয়োজন করা হয়। যুক্তরাস্ট্রের বিখ্যাত অলিম্পিক ক্রীড়াবিদ টম ওয়াডেল ও সমমনা কয়েকজন গে গেমসের উদ্যোক্তা। এরপর স্পেন, জার্মানি, ফ্রান্সসহ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এই ক্রীড়া আসরের আয়োজন হয়ে আসছে।
একাদশ গে গেমসের আসরটি মূলত ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে হংকংয়ে অনুষ্ঠি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে তা চলতি বছরের ৩ নভেম্বর থেকে হংকং এবং মেক্সিকোর গুয়াদালাজারায় শহরে শুরু হয়েছে। ১১ নভেম্বর পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতা চলবে। প্রথমবারের মতো এশিয়া এবং ল্যাটিন আমেরিকার কোনো দেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে গে গেমস।
প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পেরে ডয়চে ভেলেকে মেক্সিকোর ট্রান্সজেন্ডার ফুটবলার নোয়েমি আরযাতে বলেন, “এটি আমাদের জন্য একটি বড় সুযোগ। প্রথমত আমরা নিজেদেরকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় যাচাই করতে পারছি। দ্বিতীয়ত নতুন সংস্কৃতির দেখা পাচ্ছি, নতুন মানুষের সঙ্গে মিশতে পারছি, তাদের বিষয়ে জানতে পারছি।”
হংকংয়ের সমালোচনা!
হংকংয়ে সমলিঙ্গের মানুষের সম্পর্ক বৈধ হলেও তাদের মধ্যে বিয়ে এখনো স্বীকৃত নয়। তাছাড়া এলজিবিটিকিউপ্লাস গোত্রের লোকেদের সুরক্ষায় কোনো বিশেষ আইনও নেই। এই পরিস্থিতে হংকংয়ে এমন খেলার আয়োজন নিয়ে নানা আলোচনা, সমালোচনা চলছে।
গেমস কর্তৃপক্ষ তাদের ওয়েবসাইটে জানায়, “আমরা বিশ্বাস করি প্রথমবারের মতো এখানে (হংকংয়ে) এমন আয়োজন একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং বিশ্বের সবার জন্য একটি মাইলফলক। গে গেমস হংকং খেলাধুলা, সততা, সম্মান এবং বন্ধুত্বের মাধ্যমে আমাদের একত্র করতে পারে।”
আয়োজকদের ধারণা, এশিয়াতে প্রায় ২২ কোটি এলজিবিটিকিপ্লাস মানুষ রযেছেন। সমাজে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা পেতে প্রতিনিয়তই লড়ছেন তারা।