Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ঠাকুরগাঁওয়ে অ্যান্টিভেনম সংকট: দুই সপ্তাহে ৫ জনের মৃত্যু

হাসপাতালে সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই, স্বজনদের আর্তনাদ

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫৫ পিএম

প্রতি বছরের মতো এবারের বর্ষায়ও ঠাকুরগাঁওয়ে বেড়েছে সাপের উপদ্রব। বৃষ্টির পানিতে সাপের বাসস্থান প্লাবিত হয়ে বিষধর সাপ লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে এবং দংশনের ঘটনা ঘটছে। কিন্তু আশঙ্কাজনক বিষয় হলো- জেলার কোনো হাসপাতালেই বর্তমানে সাপে কাটা রোগীর জন্য অ্যান্টিভেনম মজুদ নেই। ফলে চিকিৎসা না পেয়ে গত দুই সপ্তাহে কমপক্ষে ৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে বালিয়াডাঙ্গীর কদমতলা গ্রামে। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র সাকিবুল ইসলামকে গত শুক্রবার বিকেলে দংশন করে সাপ। পরিবারের সদস্যরা ঠাকুরগাঁও ও আশপাশের চারটি হাসপাতালে ছুটে গেলেও কোথাও অ্যান্টিভেনম না পেয়ে পথিমধ্যেই মারা যায় শিশুটি।

সাকিবুলের বাবা ইসরাইল উদ্দিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “চারটা হাসপাতালে নিয়েছি, বালিয়াডাঙ্গী থেকে হরিপুর, ঠাকুরগাঁও সদর, বীরগঞ্জ, তারপর দিনাজপুর। কোথাও ভ্যাকসিন পাইনি। শেষ পর্যন্ত আমার ছেলে আমার কোলে মারা গেল।”

শুধু সাকিবুল নয়, পীরগঞ্জের সপ্তম শ্রেণির স্কুলছাত্র তারেক, রাণীশংকৈলের কলেজছাত্র মোকসেদ আলী ও হরিপুরে গৃহবধু সম্পা রাণীসহ আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে সম্প্রতি।

স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক আজমুল হক জানান, প্রতি বছর বর্ষায় ঠাকুরগাঁওয়ে গড়ে ১০-১৫ জন সাপে কেটে মারা যায়। অথচ অ্যান্টিভেনম পৌঁছাতে পৌঁছাতে বর্ষা শেষ হয়ে যায়।

ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন ডা. মো. আনিছুর রহমান অ্যান্টিভেনম না থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, “ঢাকা থেকে এখনও সরবরাহ পাওয়া যায়নি। সংকটের মধ্যেও কিছু অ্যান্টিভেনম আনার চেষ্টা চলছে।”

স্বজনদের দাবি, বর্ষা শুরুর আগেই উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুদ রাখা হলে এমন মর্মান্তিক মৃত্যু অনেকটাই ঠেকানো সম্ভব।

   

About

Popular Links

x