Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কুবির নারী শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির পর হত্যাচেষ্টার অভিযোগে আটক ২

অভিযুক্ত পাঁচজনের মধ্যে দুইজনকে আটক করে পুলিশের হাতে হস্তান্তর করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৫, ১০:৩৩ পিএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী চট্টগ্রামগামী লোকাল সেন্টমার্টিন পরিবহনের বাসে শ্লীলতাহানি ও ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন। এসময় অভিযুক্তরা ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে বাস থেকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাঁচজনের মধ্যে দুইজনকে আটক করে পুলিশের হাতে হস্তান্তর করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। আটক অভিযুক্তরা হলেন আলী হোসেন ও মোহাম্মদ আলী। পরে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার দেখায়। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের অজামিনযোগ্য দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

শুক্রবার (২২ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে মহাসড়কে দুই পাশে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।

জানা যায়, শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে কোটবাড়ি বিশ্বরোড থেকে সেন্টমার্টিন বাসে উঠেন ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থী। বাসটি পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড থেকে ইউ টার্ন নেওয়ার কথা থাকলেও ভুক্তভোগীকে নিয়ে বাসটি চৌদ্দগ্রামের দিকে চলে যায়। এরপর সুয়াগাজী নামক স্থানে গিয়ে ইউ টার্ন নিয়ে পুনরায় পদুয়ার বাজার আসে।

তখন বাসে ছিলেন চালক ও সহকারীসহ আরও তিনজন। বাসে একা পেয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর গলায় ছুরি ধরে গহনা, টাকাপয়সা নিয়ে নেন তারা। এসময় তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। এরপর শিক্ষার্থীকে হাত-পা বেঁধে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।এসময় পদুয়ার বাজারের স্থানীয় এক ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খবর দিলে তারা গিয়ে ভুক্তভোগীর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করেন এবং বাসে থাকা দুজনকে আটক করেন। এসময় জড়িত অন্য তিনজন পালিয়ে যান। গ্রেপ্তারদের ভাষ্যমতে পলাতক তিনজন হলেন–পিচ্চি রাসেল (৩২), নূর আলম এবং সৌরভ।

ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা ৯৯৯ ফোন দিলে পুলিশ আসে। শিক্ষার্থীরা বাস মালিক এবং অভিযুক্ত বাকী দুইজনকে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসার জন্য দাবি জানায়। দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।

পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা আলোচনায় বসেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযুক্তদের দুইবছর কারাদণ্ড দেন। বাকিদের ধরতে অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাদী হয়ে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণ চেষ্টার মামলা করবে বলে নিশ্চিত করেছেন। ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা সেন্টমার্টিন পরিবহনের দুটি বাস জব্দ করে ক্যাম্পাসে নিয়ে যায়।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণের উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রুবাইয়া খানম বলেন, “শিক্ষার্থীদের প্রস্তাব দিয়েছিলাম মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা দেওয়ার বিষয়ে। অবশেষে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি মেনে নিয়েছেন।”

কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান বলেন, “গ্রেপ্তার দুইজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত অন্য তিনজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম বলেন, “শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে দ্রুতই চলে আসি। এসে দেখি পরিস্থিতি উত্তপ্ত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী এসেও হিমশিম খাচ্ছে। অবশেষে একটা সুরাহা হয়েছে। অভিযুক্তদের দুই বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী বলেন, “আমাদের একজন নারী শিক্ষার্থীদের হাত-পা বেঁধে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দুইজন ধরা পড়েছে। পুলিশ প্রশাসন কথা দিয়েছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাকি তিনজনকে গ্রেপ্তার করবে।”

   

About

Popular Links

x