Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

রংপুরে জ্বালানি তেলের সংকট বাড়ছে 

৪০টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে মাত্র একটিতে তেল দেওয়া হচ্ছে

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম

বিভাগীয় নগরী রংপুরে জ্বালানি তেলের সংকট বাড়ছে। নগরীর ৪০টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে মাত্রে একটি পাম্পে তেল দেওয়া হচ্ছে। শত শত যানবাহন ৫/৬ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে, পূর্ব ঘোষণা ছাড়া ট্রাফিক পুলিশ ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের কাগজ দেখার নামে জরিমানা আদায় করছে বলে অভিযোগ।

অপরদিকে, ডিপো থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহে বৈষম্যের অভিযোগ করছে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ। কয়েকটি ফিলিং স্টেশনকে প্রতিনিই জ্বালানি তেল দেওয়া হলেও বেশির ভাগ ফিলিংস্টেশনগুলোতে চার থেকে ছয় দিন পর জ্বালানি তেল দেওয়িা হচ্ছে। ফলে প্রয়োজনের তুলনায় সরবরাহ না পাওয়ায় তেলের জন্য হাহাকার পড়ে গেছে। গ্রাহকদের দাবি, ফুয়েল কার্ড দেওয়া হোক এবং আগাম ঘোষণা না দিয়ে ট্রাফিক পুলিশের হয়রানি বন্ধ করা হোক।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) নগরীতে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশনে “তেল নাই” সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।

নগরীর শাপলা চত্বরে অবস্থিত ইউনিক ট্রের্ডাস ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে মোটরসাইকেলের আধা কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন। সেইসঙ্গে প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন যানবাহনেরও দীর্ঘ লাইন।

ওই ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীরা জানান, বিভিন্ন ডিপোতে তেল আনতে গিয়ে দুই দিন ধরে বলা হচ্ছে, ট্যাংক লরি কখন আসবে তা বলা যাচ্ছে না। তবে এলে তেল দেওয়া হবে।

সালেক পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার আফসার আলী জানান, পাঁচ দিন আগে ৩,০০০ লিটার পেট্রোল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। সেই তেল চার ঘণ্টা মধ্যে বিক্রি শেষ। এরপর আর তেল দেওয়া হয়নি। কবে দেবে তা-ও ডিপো থেকে জানান হচ্ছে না।

স্টেশন রোডের রহমান পেট্রোল পাম্পের কর্মচারী জানান, চার দিন আগে পেট্রোল পাওয়া গেছে। কিন্তু অকটেন দেওয়া হয় নাই। এখন কবে তেল পাওয়া যাবে তা তারা জানেন না।

ইউনিক ট্রেডার্স প্রতিদিন জ্বালানি তেল বরাদ্দ পায় অন্যান্যরা কেন পায় না তার কারণ তারা জানেন না।

এ ব্যাপারে রংপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (ইডসি) রমিজ আলম জানান, জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। আমরা সার্বিক বিষয় নজর রাখছি। 

নগরীর শাপলা চত্বরে অবস্থিত ইউনিক ট্রেডার্সে ট্রাফিক বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তাকে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেলের ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাদের আছে তাদের দ্রুত তেল দেওয়ার বিষয়টি তদারকি করতে দেখা গেছে। এ ব্যাপারে হ্যান্ড মাইকে প্রচার চালাচ্ছে পুলিশ। যাদের কাগজপত্র আছে তারা দ্রুতই তেল পাচ্ছে।

এ ব্যাপারে রংপুর মেট্রোপলিটান পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের এডিসি ট্রাফিক মারুফ আহম্মেদ জানান, আমরা ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকলে তাদের তেল নিতে দিচ্ছি। আর যাদের কাগজপত্র নেই তাদের জরিমানা করা হচ্ছে।

এদিকে, ফিলিং স্টেশন মালিক সমিতির যুগ্ন সম্পাদক আশফাক মাহাতাব বলেন, “আগে জানানো হতো কখন কোন ফিলিং স্টেশনে তেল দেওয়া হবে। এখন তা জানানো হচ্ছে না। পুরো সমন্বয়হীনতা চলছে। তেল না পেয়ে গ্রাহকরা শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনসহ উপজেলা পর্যায়ে ফিলিং স্টেশনে যাচ্ছে। সেখানেও দীর্ঘ লাইন।”

   

About

Popular Links

x