Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পারিবারিকভাবে স্ত্রীকে আর ঘরে তোলা হলো না সম্রাটের

তার স্ত্রী পূজা দাসও একজন পুলিশ সদস্য, যিনি বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলায় কর্মরত

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম

পারিবারিকভাবে অনুষ্ঠান করে ৩ মে স্ত্রীকে ঘরে তোলার কথা ছিল পুলিশ কনস্টেবল সম্রাট বিশ্বাসের (২৭)। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন তিনি। দাম্পত্য কলহের জেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে সম্রাট কর্মস্থলে নিজের ইস্যুকৃত রাইফেল দিয়ে মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করছে তার পরিবার।

সম্রাট বিশ্বাস গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়নের পদ্মবিলা গ্রামের শৈলেন বিশ্বাসের একমাত্র ছেলে। ২০১৮ সালে পুলিশে যোগ দেওয়া সম্রাট খুলনা রেলওয়ে পুলিশে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী পূজা দাসও একজন পুলিশ সদস্য, যিনি বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলায় কর্মরত।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সম্রাট ও পূজার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। অক্টোবরে দুই পরিবারের সম্মতিতে তাদের রেজিস্ট্রি বিয়ে হয়। তবে বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া ও কলহ চলত। শুক্রবার রাতেও স্ত্রীর সঙ্গে সম্রাটের তীব্র বাকবিতণ্ডা হয় বলে জানা গেছে। এরপর শনিবার সকালে খুলনার সোনাডাঙ্গা রেলওয়ে জেলা পুলিশ লাইনসের অস্ত্রাগারে দায়িত্ব পালনকালে তিনি নিজের চাইনিজ রাইফেল দিয়ে মাথায় গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন।

শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সম্রাটের মরদেহ তার নিজ গ্রামে পৌঁছালে এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাবা-মা ও স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। পরে সন্ধ্যায় তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

সম্রাটের মামা সত্যজিৎ রায় বলেন, “পরিবারের একমাত্র ছেলে হওয়ায় তার ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে আমরা পূজার সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু, বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে বিবাদ লেগেই থাকত। এমনকি সম্রাট তার আয়ের সব টাকাই স্ত্রীকে দিয়ে দিত। সহকর্মীদের কাছে জেনেছি, আত্মহত্যার আগের রাতেও স্ত্রীর সঙ্গে তার প্রচণ্ড ঝগড়া হয়েছিল।”

সম্রাটের বোনের স্বামী বিপ্লব কুমার সেন জানান, মা-বাবার সঙ্গে সম্রাটের কোনো বিরোধ ছিল না। স্ত্রীর সঙ্গে চলমান অশান্তির কারণেই সে এই চরম পথ বেছে নিয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন। প্রতিবেশী আলমগীর ফকির সম্রাটকে অত্যন্ত ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের ছেলে হিসেবে অভিহিত করেন।

এদিকে, সম্রাটের স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন খুলনায় গেলেও শেষ বিদায় জানাতে গোপালগঞ্জের বাড়িতে না আসায় দুই পরিবারের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ সদস্যের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

   

About

Popular Links

x