Thursday, June 11, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

যশোরে শাশুড়িকে হত্যার পর মরদেহ বস্তায় ভরে ‘নিখোঁজ’ নাটক

প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে পুত্রবধূ শাশুড়িকে হত্যার স্বীকারোক্তি দিয়েছেন

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম

যশোরে পারিবারিক কলহ ও বকাঝকা করায় শাশুড়িকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগে পুত্রবধূ মরিয়ম বেগমকে (২০) আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কোতোয়ালি থানা পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র চাপাতিও উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) আবুল বাসার এসব তথ্য জানান।

এএসপি জানান, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শাশুড়ির সঙ্গে পুত্রবধূ মরিয়ম বেগমের বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন পুনরায় বকাবকি করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ঘরে থাকা একটি চাপাতি দিয়ে শাশুড়িকে জবাই করে হত্যা করেন মরিয়ম। পরে লাশ বস্তাবন্দি করে বাড়ির সামনে ফেলে রাখেন এবং হত্যার অস্ত্রটি ঘরের ওয়্যারড্রবের ভেতরে লুকিয়ে রাখেন। পরে অভিযুক্তের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তার ঘর থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করা হয়।

এর আগে, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দিবাগত মধ্যরাতে শাশুড়ি সকিনা বেগমের বস্তাবন্দি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর পুত্রবধূ মরিয়মকে আটক করে হত্যারহস্য উদ্ঘাটন করা হয়।  

নিহত সকিনা বেগম (৬০) লাল চাঁদ খলিফার স্ত্রী ও যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে সকিনার ছেলে শহিদুল ইসলাম দোকানে যাওয়ার সময় তার স্ত্রী মরিয়ম তাকে বাইরে খেয়ে নিতে বলেন এবং জানান বাসায় রান্না হয়নি। এ সময় মায়ের খোঁজ করলে মরিয়ম জানান, তিনি বাইরে তালিমে গেছেন। রাতে বাড়ি ফিরে শহিদুল তার মাকে না পেয়ে আবার খোঁজ নেন, কিন্তু তখনও একই কথা বলা হয়।

বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় শহিদুল ইসলাম থানায় গিয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পরে রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ির সামনে একটি বস্তার ভেতরে লাশ দেখতে পান তিনি। পরবর্তীতে তিনি ও তার বোন লাশটি সকিনা বেগমের বলে শনাক্ত করেন।

খবর পেয়ে ডিবি ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের যৌথ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার এবং আলামত সংগ্রহ করে। তদন্তে মরিয়ম বেগমের আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মরিয়ম হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ব্রিফিংকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) আহসান হাবীবসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

   

About

Popular Links

x